বাসস
  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৫

৫০০ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী সোনারগাঁয়ের গোয়ালদি মসজিদ

সোনারগাঁয়ের গোয়ালদি মসজিদ । ছবি: বাসস

\ নুসরাত সুপ্তি \

নারায়ণগঞ্জ, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ের মেঠো পথ ধরে হাঁটলেই ইতিহাসের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। সেই ইতিহাসের পাতায় খোদাই করা এক গৌরবোজ্জ্বল স্থাপত্যের নাম ‘গোয়ালদি মসজিদ’। প্রায় পাঁচশ বছর ধরে সুলতানি আমলের ঐশ্বর্য আর স্থাপত্যশৈলীর সাক্ষী হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই স্থাপনাটি।

মসজিদের শিলালিপির তথ্য অনুযায়ী, ১৫১৯ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মোল্লা হিজাবর আকবর খান নামে এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি একক গম্বুজ সুলতানি রীতির ব্যাপক প্রচলিত স্বকীয়তাকেই তুলে ধরেছে।

গোয়ালদি মসজিদটি একটি একক গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপত্য। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের চার দেয়ালের বাইরে চারপাশে ও পিলারগুলোতে এখনো পূর্বের নকশাগুলো খচিত রয়েছে। মসজিদের পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে খিলানাকৃতির প্রবেশপথ দেখা যায়। মসজিদের চারকোণের চারটি খিলানের গম্বুজ একটি। চুন-স্ুঁড়কি ও লাল বর্ণের মজবুত ইট পাথর দিয়ে নির্মিত ইমারতটি সাজানো। আরবি নানা হরফের অলংকরণে সজ্জিত মসজিদের ভেতরে খুতবার স্থান এবং মিম্বারটিও কালো রঙের শাহী নকশায় সাজানো।

প্রতিদিন দেশি বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে। 

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ঢেউ বলেন, সোনারগাঁয়ে প্রতিটা প্রাচীন নিদর্শনই প্রাচীন সভ্যতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। বিশেষ করে এই গোয়ালদি মসজিদের টেরাকোটার নকশাগুলো দেখে ভাবি, পাঁচশ বছর আগে আমাদের কারিগররা কতটা দক্ষ ছিলেন!

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে গোয়ালদি মসজিদ। মসজিদের চারপাশে প্রাচীর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে লোনা ধরা বা পরিবেশগত কারণে যেন দেয়ালের নকশাগুলো নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’র আহবায়ক শাহেদ কায়েস বলেন, গোয়ালদি শাহী মসজিদটির বাইরের সীমানা দেয়াল রং করা হয়েছে। তবে মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। এগুলোও সংস্কার করা জরুরি। প্রাচীন নির্মাণশৈলী ও অবকাঠামো ঠিক রেখে নতুন করে সংস্কার করলে অন্তত আরও কয়েকশ বছর মসজিদটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। মসজিদের মিহরাবের উপরে কালো মূল্যবান পাথর রয়েছে। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনকে রক্ষা করতে হলে পর্যাপ্ত সংস্কার করতে হবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা গোয়ালদি মসজিদের সংস্কার সংক্রান্ত কাজ নিয়ে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।