শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দিযয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশ্যমের স্মরণীয় ১৪ বছরের অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
তার উত্তরসূরি হওয়ার অপেক্ষায় আছেন দেশ্যমের সাবেক সতীর্থ এবং ফরাসি ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা জিনেদিন জিদান।
৫৭ বছর বয়সী দেশ্যম খেলোয়াড় ও কোচ- উভয় ভূমিকাতেই গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের পর ফ্রান্সকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়ে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমে ফ্রান্স শুরুতে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হোঁচট খায়।
টেক্সাসের আর্লিংটনে ২-০ গোলের সেই হতাশাজনক পরাজয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের। এখন তাদের লক্ষ্য কেবল ব্রোঞ্জপদক নিশ্চিত করা।
তবে স্বাভাবিকভাবেই মিয়ামিতে নিজের শেষ ম্যাচকে আবেগঘন বিদায় হিসেবে দেখছেন না দেশ্যম।
ম্যাচের আগের দিন তিনি বলেন, “আমি জীবনে অনেক জাদুকরী মুহূর্ত দেখার সৌভাগ্য পেয়েছি, আবার কঠিন সময়ও পার করেছি। কিন্তু জীবন চলতেই থাকে। আমি ইতিবাচক মানুষ এবং জানি সামনেও ভালো সময় আসবে। ফ্রান্সের কোচ হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
দেশ্যমকে চিরকাল মনে রাখা হবে ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের স্থপতি হিসেবে। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে অধিনায়কত্ব করে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন, আর ঠিক ২০ বছর পর কোচ হিসেবে এনে দেন দ্বিতীয় শিরোপা।
২০১০ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। দলটি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। সেই আসরজুড়ে তৎকালীন কোচ রেমোঁ ডোমেনেকের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
এরপর লরেন্ট ব্ল্যাঙ্ক ২০১২ ইউরোতে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুললেও, দেশ্যমই প্রকৃত অর্থে ফ্রান্সকে নতুন রূপ দেন। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় তার অধীনেই বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স এবং সেই আসরেই কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্ব ফুটবলের সুপারস্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
অবশ্য দেশ্যমের সময়ে হতাশাও ছিল। ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে নিজেদের মাঠে পর্তুগালের কাছে হার এবং ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে পরাজয় ছিল সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর অন্যতম।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ধাক্কা ছিল আরও কষ্টের। তারপরও সাতটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মধ্যে পাঁচটিতে দলকে অন্তত সেমিফাইনালে তোলার কৃতিত্ব দেশ্যমকে গর্বিত করতেই পারে।
চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে ধারাবাহিক সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে দেশ্যম বলেছিলেন, “জানি না, সম্ভবত খুব ভালো খেলোয়াড় থাকার কারণেই এই সাফল্য অর্জন করেছি। তবে আমি নিশ্চয়ই আমার কাজটা খুব খারাপ করছি না।”
গত এক বছরে দেশ্যম ফ্রান্সের খেলার ধরনেও বড় পরিবর্তন এনেছেন। অতীতে সাফল্য এনে দেওয়া রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ফুটবলের দিকে ঝুঁকেছেন। দলে এত প্রতিভাবান ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলানোর জন্য তিনি প্রায়ই সমালোচিত হতেন। ২০২৪ ইউরোতে ফ্রান্স ছয় ম্যাচে মাত্র চারটি গোল করেছিল।
এবার তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে স্বাধীনভাবে আক্রমণে খেলার সুযোগ দিয়ছেন। তবে স্পেনের বিপক্ষে হয়তো আরও কিছুটা সতর্ক কৌশল নিলে ভালো হতো, এমন আক্ষেপ তার থেকে যেতে পারে।
এই বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন দেশ্যম। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফিরতে হয় এবং সে কারণে তিনি একটি ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে দেশম্যের ২৭তম ম্যাচ, যা একটি রেকর্ড। এরপরই শুরু হবে তার জীবনের নতুন অধ্যায়।