শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনাকে থামিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। একইসাথে বিশ্বকাপের ঝকঝকে শিরোপা হাতে নেবার প্রতীক্ষাও আরও দীর্ঘ হয়েছে। থমাস টাচেলকে ব্যাপক প্রত্যাশা ও জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, তাঁর লক্ষ্য হলো আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে ইংল্যান্ডের জার্সিতে দ্বিতীয় তারকা যোগ করা।
বহু বছরের হতাশা কাটিয়ে টাচেলকে নিয়োগের মধ্য দিয়ে মনে করা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত থ্রি লায়ন্সের দীর্ঘ কয়েক দশকের বড় কোনো শিরোপার অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
তাঁর পূর্বসূরি গ্যারেথ সাউথগেট প্রতিভাবান এক প্রজন্মের ইংল্যান্ড দলকে দুটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল, একটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল এবং একটি বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন।
কিন্তু প্রতিটি অভিযানই শেষ হয়েছিল হতাশায়। আর বারবারই সাউথগেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, ম্যাচের পরিস্থিতি বদলালে তিনি যথেষ্ট দ্রুত কৌশল পরিবর্তন করতে পারেননি। কৌশলগত দক্ষতার জন্য খ্যাত টাচেলের অধীনে সবকিছুই ভিন্ন হবে- এমনটাই আশা করা হয়েছিল। ২০২১ সালে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর মাধ্যমে তিনি নিজের কৌশলগত প্রজ্ঞার প্রমাণ দিয়েছিলেন।
কিন্তু বুধবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড আবারও সেই পরিচিত পরিণতির শিকার হলো। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিপক্ষকে চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
২০১৮ বিশ্বকাপের পর এনিয়ে তৃতীয়বার বড় কোনও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে এগিয়ে থেকেও হেরে গেল ইংল্যান্ড।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবারের হারসহ তিনটি পরাজয়ের চিত্রই ছিল প্রায় একই- দৃঢ় সূচনা, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া, মরিয়া রক্ষণাত্মক লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ।
ইংল্যান্ডের সর্বশেষ এই ব্যর্থতার জন্য অনেক সমালোচক ও সাবেক ফুটবলার সঙ্গে সঙ্গেই টাচেলের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, অ্যান্থনি গর্ডন ৫৫তম মিনিটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেওয়ার পর টাচেল খুব দ্রুত অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেন।
ম্যাচের শেষ ভাগে আর্জেন্টিনা প্রায় পুরোপুরি ইংল্যান্ডের ডি-বক্সের আশপাশে অবস্থান নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায়। শেষ পর্যন্ত ৮৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ এবং যোগ করা সময়ে লটারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে জয় উপহার দেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন বলেন, এটি ছিল হাতছাড়া হয়ে যাওয়া এক সুবর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে টাচেলের পরিবর্তনগুলো নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
এক্সে তিনি লেখেন, "আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই, আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের হারটাই প্রাপ্য ছিল। সত্যি বলতে, ব্যবধান ৪-১-ও হতে পারত।"
তিনি আরও লেখেন, "১-০ গোলে এগিয়ে থেকে তিনজন ডিফেন্ডার নামানো, এতে কী বার্তা পাওয়া যায়? ... যতদিন না আমরা বুঝতে পারছি যে সাহস ও দৃঢ়তা মানে চাপের মধ্যেও বলের দখল ধরে রাখা, ৪০ গজ দূরে শুধু লম্বা ক্লিয়ারেন্স বা হেড করে বল পাঠিয়ে দেওয়া নয়, ততদিন ফলাফল এমনই হবে।"
ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও একই মত প্রকাশ করেন। বিবিসির বিশ্লেষক হিসেবে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় গ্যারেথ সাউথগেট বাড়িতে বসে এই ম্যাচ দেখছেন। ইংল্যান্ড বড় ম্যাচে এগিয়ে থাকার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে যাওয়া নিয়ে সাউথগেট প্রচুর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমার মনে হয়, আসলে কিছুই বদলায়নি।"