বাসস
  ১০ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৮

রোনালদো-রিভালদো জুটির রেকর্ড স্পর্শ করলেন এমবাপে-দেম্বেলে

ঢাকা, ১০ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের জোড়া গোলে গত রাতে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে গত আসরের রানার্স-আপ ফ্রান্স। রেকর্ড অষ্টমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠল ফরাসিরা।

সেমিফাইনাল নিশ্চিতের সাথে সাথে অনেক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে ফ্রান্স। ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালদো ও রিভালদোর পাশে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন এমবাপ্পে ও দেম্বেলে। এছাড়া আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন এমবাপ্পে।

২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিলের হয়ে ১৩ গোল করেছিলেন রোনালদো ও রিভালদো জুটি। ঐ আসরে রোনালদো ৮ গোল ও রিভালদো ৫ গোল করেন। ২০০২ সালের পর প্রথমবার কোনো দলের দুইজন পাঁচ বা তার বেশি গোল করলেন। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ৮টি ও দেম্বেলে ৫টি গোল করেছেন। এর মাধ্যমে রোনালদো-রিভালদোর রেকর্ড স্পর্শ করলেন তারা।

ব্রাজিলের রোনালদো-রিভালদো ও রোনালদিনহোর অনন্য রেকর্ড ভেঙেছেন এমবাপে-দেম্বেলে-মাইকেল ওলিস । ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিলের রোনালদো-রিভালদো ও রোনালদিনহো মিলে ২০ গোলে অবদান রেখেছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে ২৩ গোলে অবদান রেখে রেকর্ড গড়েছেন এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিস।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২০ গোল করেছেন এমবাপ্পে। ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন মেসি।

ফ্রান্সের প্রথম ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে শতাধিক গোলে অবদান রেখেছেন এমবাপ্পে। ৬৪ গোল করার পাশাপাশি ৩৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

মরক্কোর বিপক্ষে গত রাতে পেনাল্টি মিস করেন এমবাপ্পে। ২০২০ সালের পর এটি ছিল তার প্রথম পেনাল্টি মিস। সর্বশেষ ২০২০ সালে ইউরোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। তবে এর আগে ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টিতে গোল করেছেন এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১৪ গোলে অবদান আছে এমবাপ্পের। সর্বশেষ ৬০ বছরে মেসির সঙ্গে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুই বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান রেখে রেকর্ড গড়েছেন এমবাপ্পে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ১০ গোলের পর চলতি আসরে ১১ গোলে অবদান রেখেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৮ ম্যাচে জয়সূচক গোল করেছেন এমবাপ্পে। বিশ্ব আসরে যা সর্বোচ্চ।

চলতি বিশ্বকাপে মেসির সমান ৮টি গোল করেছেন এমবাপ্পে। তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে টপকে গেছেন এমবাপ্পে। গোলসংখ্যা সমান হলেও অ্যাসিস্ট বিবেচনায় এগিয়ে এমবাপ্পে। তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন এমবাপ্পে। মেসির অ্যাসিস্ট করেছেন একটি।

চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চম গোল করেছেন দেম্বেলে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।

বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স। এর আগে টানা তিনবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল জার্মানি ও ব্রাজিল।

এছাড়া ব্রাজিলের সমান আটবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ১২ বার সেমিফাইনাল খেলে বিশ্ব রেকর্ডের মালিক জার্মানি।

বিশ্বকাপে ইতালির সাথে যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৪৫ জয় পেয়েছে ফ্রান্স। ৭৯ জয় নিয়ে সবার উপরে ব্রাজিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে - জার্মানি (৭০) ও আর্জেন্টিনা (৫২)।

১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছেন মরক্কোর আয়ুব বুয়াদি। পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শেষ আটে খেললেন তিনি। সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে রেকর্ডের মালিক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। ১৭ বছর ২৩৯ দিনে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছেন তিনি।