শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে উড়ন্ত মেক্সিকোকে নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। এর মাধ্যমে কানাডার পর আরেক সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিদায় ঘটলো।
ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে আজকের এই ম্যাচটি ইতোমধ্যেই এবারের বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সেরা ম্যাচের তকমা পেয়ে গেছে। বেলিংহাম ছাড়াও ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন পেনাল্টি থেকে এক গোল করেছেন। এই জয়ে ৬০ বছরের মধ্যে প্রথম বড় কোন টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন টিকে থাকলো থ্রি লায়ন্সদের।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ইংল্যান্ড বেলিংহাম ও কেনের উপর নির্ভর করেছে। কালও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। শেষ আটে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে।
ম্যাচ শেষে ইংলিংশ বস থমাস টাচেল বলেছেন, ‘ম্যাচ যতই কঠিন হোক না কেন ছেলেরা কখনই ছেড়ে দেয়নি। নিজেদের উপর তাদের আস্থা ছিল। এটা আরও একধাপ এগিয়ে যাবার গল্প। আমাদের অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হয়েছে, এটি আজটেকা, এটি মেক্সিকো, যেখানে পাগলাটে ম্যাচ হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা এখানে সম্ভাব্য সবকিছুই করার চেষ্টা করেছি। দলের প্রত্যেকের মধ্যেই একই মানসিকতা ছিল। এখন আরও সামনে এগিয়ে যাবার পালা।’
প্রথমার্ধে মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের মধ্যে বেলিংহাম দুই গোল করে মেক্সিকোকে হতবাক করে দেয়। আজটেকা স্টেডিয়ামে এটি মেক্সিকোর ৯০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তৃতীয় পরাজয়। জুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল জিমিনেজের গোলে মেক্সিকো ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচটি শুরু হবার কথা থাকলেও প্রচন্ড বজ্রসহ বৃষ্টির কারনে এক ঘন্টা দেরীতে শুরু হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দুই দল মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার উচ্ছসিত সমর্থক কাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৪০ বছর পর প্রথমবারের মত নকআউট পর্বে পৌঁছানো মেক্সিকো শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী, তার উপর ঘরের মাঠে খেলা।
ম্যাচের শুরুতে জিমিনেজের ডাইভিং হেড ঠেকিয়ে জর্ডান পিকফোর্ড ইংল্যান্ডকে রক্ষা করেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটির একাদশ থেকে কোচ টাচেল তিনটি পরিবর্তন আনেন।
টানা তৃতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলার মতো ফিট না থাকায় রেসি জেমসের পরিবর্তে রাইট-ব্যাকে খেলতে হয় জারেল কোয়ানসাহকে। ওই পজিশনের জন্য বিশেষজ্ঞ বিকল্প খেলোয়াড় দলে না রাখার সিদ্ধান্তে টাচেল সমালোচনার মুখেও পড়েন। উইংয়ে শুরু করেন অ্যান্থনি গর্ডন ও বুকায়ো সাকা, আর দুজনই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
৩৬ মিনিটে সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে জুড বেলিংহাম শক্তিশালী হেডে গোল করেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে মেক্সিকোর হজম করা প্রথম গোল। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার ইংল্যান্ডের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। কেনের নিখুঁত পাসে বেলিংহাম জোরালো শটে টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন।
তবে বিরতির আগেই এই লিড প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল। ইংল্যান্ড একটি ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে কুইনোনেস টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করে মেক্সিকোর ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগান। এরপর জিমিনেজ একটি শট বাইরে মারেন এবং আরেকটি হেড পিকফোর্ড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকো ও'রাইলির ডিফ্লেক্টেড শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৫৪তম মিনিটে ভিএআর পর্যালোচনার পর জেসুস গালার্দোকে বাজেভাবে ট্যাকেলের জন্য কোয়ানসাহকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
তবে মাত্র ছয় মিনিট পর ১০ জনের ইংল্যান্ডই আবার ব্যবধান বাড়ায়। মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল বক্সের ভেতরে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গোল করেন কেন।
ইংল্যান্ড অধিনায়কের টুর্নামেন্টে এটি ষষ্ঠ গোল। গোল্ডেন বুট দৌড়ে আর্লিং হলান্ড, লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন কেন।
এরপর ম্যাচে আবারও নাটকীয় মোড় আসে। এবার নিজের বক্সের ভেতরে ফাউলের জন্য কেনের বিরুদ্ধে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জিমিনেজ সহজেই গোল করে শেষ ২০ মিনিটকে রোমাঞ্চকর করে তোলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড দৃঢ়তা দেখায়। অতিরিক্ত ১১ মিনিটে মেক্সিকোর একের পর এক আক্রমণ মরিয়া হয়ে সামলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে তারা।