শিরোনাম

ঢাকা, ৩১ মে, ২০২৬ (বাসস) : অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। শুটআউটে আর্সেনালের হয়ে এবেরেচি এজে ও গ্যাব্রিয়েল স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
কোচ মিকেল আর্তেতার অধীনে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল অসাধারণ লড়াই করে ম্যাচকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে হারের ২০ বছর পর এটি তাদের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পরাজয়।
লুইস এনরিকের দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যুগে টানা দুই মৌসুমে শিরোপা জেতা দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে ইতিহাস গড়েছে। এর আগে কেবল রিয়াল মাদ্রিদ এই কীর্তি গড়েছিল।
পিএসজির উইঙ্গার ডিসায়ার ডুয়ে বলেন, “আমরা ভীষণ গর্বিত, ভীষণ খুশি এবং কৃতজ্ঞ। একটি দল হিসেবে, একটি পরিবার হিসেবে আমাদের এটি প্রাপ্য ছিল। সমর্থকদের দিকে তাকান, আমরা সবাই কতটা আনন্দিত।”
পিএসজির প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে ৫৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪ বছর ছিল কাতারি মালিকানার অধীনে। দ্বিতীয় শিরোপাটি তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ বলেন, “আগে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ, এখন আমরাও সেই তালিকায়। তারা পুরো ম্যাচে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে, কিন্তু ফুটবল ন্যায়বিচার করেছে। আজ সঠিক দলই জিতেছে।”
দলের তারকাখচিত যুগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নতুন দল গড়ে তুলেছেন লুইস এনরিকে। তার দল এখন সমন্বিত, নিবেদিতপ্রাণ এবং ভয়ঙ্কর গতির আক্রমণভাগ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করতে সক্ষম।
এটি এনরিকের তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ফলে তিনি ইতিহাসের মাত্র পাঁচজন কোচের একজন হলেন, যাঁরা তিনবার এই ট্রফি জিতেছেন। এর প্রথমটি তিনি ২০১৫ সালে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে জিতেছিলেন।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য পিএসজির জন্য হতাশাজনক ছিল। মাত্র ছয় মিনিটেই আর্সেনালকে এগিয়ে দেন কেই হাভার্টজ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ওসমানে ডেম্বেলে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান, যা ম্যাচকে অতিরিক্ত সময় এবং পরে টাইব্রেকারে নিয়ে যায়।
আর্সেনাল মিডফিল্ডার ডিক্লান রাইস বলেন, “পেনাল্টিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল হারাটা খুবই কষ্টদায়ক। আমরা শেষ পর্যন্ত সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। পেনাল্টি শুটআউট একপ্রকার ভাগ্যের খেলা।”
২২ বছর পর ইংলিশ লিগ শিরোপা জেতায় আর্সেনালের বিজয় মিছিল রোববার অনুষ্ঠিত হবে, তবে হাঙ্গেরিতে এই পরাজয় তাদের আনন্দে কিছুটা বিষাদ মিশিয়ে দেবে।
গত বছরের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করা দলের ১১ জনের মধ্যে ১০ জনকে এই ম্যাচেও একাদশে রেখেছিলেন লুইস এনরিকে।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে মারকুইনহোসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তিনি পিএসজির রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে গিয়ে কঠিন কোণ থেকে জোরালো শটে জালে বল পাঠান।
ফাইনালে ওঠার পথে মাত্র ছয় গোল হজম করা আর্সেনালের সুশৃঙ্খল রক্ষণ পিএসজিকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। বলের দখল পিএসজির কাছে থাকলেও তারা আর্সেনালের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না।
বিরতির পর পিএসজি আরও দ্রুত গতিতে আক্রমণ শুরু করে। আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া প্রথমে আশরাফ হামিকির ফ্রি-কিক রক্ষা করেন। এরপর দেম্বেলের সঙ্গে চমৎকারভাবে বল আদান প্রদান করার পর কভারাতসখেলিয়াকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ক্রিস্টিয়ান মসকুয়েরা। পেনাল্টি থেকে নিচু শটে গোল করে রায়াকে ভুল পথে পাঠান দেম্বেলে। এটি ছিল টুর্নামেন্টে পিএসজির ৪৫তম গোল, যা প্রতিযোগিতার সর্বকালের রেকর্ডেও সমান।
পরে কভারাতসখেলিয়া পোস্টে শট মারেন এবং ক্লান্ত আর্সেনালের বিপক্ষে পিএসজি আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে।
অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় নোনি মাদুয়েকের বিপক্ষে নুনো মেনডেসের ফাউলে আর্সেনাল পেনাল্টির দাবি তুললেও রেফারি তা নাকচ করেন।
অবশেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। এই মৌসুমে এর আগেই তিনটি ট্রফি পেনাল্টিতে জেতা এবং টানা পাঁচটি শুটআউটে জয় পাওয়া পিএসজি আত্মবিশ্বাসী ছিল।
প্রথমে আর্সেনালের এবেরেচি এজে শট বাইরে মারেন। এরপর রায়া নুনো মেন্ডেসের শট ঠেকিয়ে দেন। পরে ডিক্লান রাইস গোল করে স্কোর ২-২ সমতায় আনেন।
তবে শেষ পর্যন্ত লুকাস বারালডো গোল করে পিএসজিকে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর আর্সেনালের পঞ্চম শট নিতে আসা গ্যাব্রিয়েল বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে পাঠালে শিরোপা নিশ্চিত হয় পিএসজির।
এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজেদের মাথায় তুলে নেয় প্যারিসের ক্লাবটি।