শিরোনাম

নওগাঁ, ৩০ মে, ২০২৬ (বাসস) : যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে, স্বাস্থ্যসচেতন ও ক্রীড়ামুখী জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নওগাঁর রাণীনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রানিং উৎসব “রাণীনগর ১০ কিমি” (সিজন-২)।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত রানারের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
আজ শনিবার সকালে রাণীনগর-সাহাগোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে রাণীনগর ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (রাইডো)-এর উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৩৫টি জেলা থেকে ৭০০ জন পেশাদার ও অপেশাদার রানার এতে অংশগ্রহণ করেন। গত বছরের তুলনায় এবার আয়োজনের পরিসর ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিযোগিতায় ১০ কিলোমিটার জেনারেল, ৫ কিলোমিটার পুরুষ বিগিনার, ৫ কিলোমিটার মহিলা এবং ১ কিলোমিটার কিডস-এই চারটি ক্যাটাগরিতে দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৬টায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
দৌড় শেষে সকাল ৮টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি শেখ মো: রেজাউল ইসলাম।
১০ কিলোমিটার জেনারেল ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়নকে ৫ হাজার টাকা, প্রথম রানার-আপকে ৪ হাজার, দ্বিতীয় রানার-আপকে ৩ হাজার, তৃতীয় রানার-আপকে ১ হাজার ৫০০ এবং চতুর্থ রানার-আপকে ১ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া সেরা ১০ জন রানারকে বিশেষ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে ৫ কিলোমিটার পুরুষ ও মহিলা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়নদের ৩ হাজার টাকা, প্রথম রানার-আপকে ২ হাজার এবং দ্বিতীয় রানার-আপকে ১ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। ১ কিলোমিটার কিডস ক্যাটাগরিতে অংশ নেওয়া ৪০ শিশুকে অংশগ্রহণ স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
রাইডোর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. রুমন হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো: এছাহক আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. মোসারব হোসেন, রাণীনগর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসাইন এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইবনু সাব্বির আহমেদ।
প্রধান অতিথি শেখ মো: রেজাউল ইসলাম বলেন, তরুণদের সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এই ধরনের আয়োজন গুররুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাণীনগরে এমন একটি বৃহৎ ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. মো. রুমন হোসেন বলেন, রাইডোর মূল লক্ষ্য হলো খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তরুণদের একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে সম্পৃক্ত করা। ‘রাণীনগর ১০ কিমি’ এখন শুধু একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়, এটি স্বাস্থ্য সচেতনতা, সম্প্রীতি এবং তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজন সফল করায় তিনি রাণীনগরবাসী, অংশগ্রহণকারী রানার, ক্রীড়াপ্রেমী, স্বেচ্ছাসেবক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।