শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ মে ২০২৬ (বাসস) : প্রিমিয়ার লিগ তারকা আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিওকেরেসকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগের ওপর ভর করে বিশ্বকাপের কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে যেতে চায় সুইডেন। বাছাইপর্বে একটি ম্যাচও না জিতে তারা কোনমতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।
গ্রাহাম পটারের দল উত্তর আমেরিকায় গ্রুপ-এফ’এ নেদারল্যান্ডস, জাপান ও তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে।
তারা টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে।
সুইডেন অদ্ভুত এক পথ পাড়ি দিয়ে মূল পর্বে এসেছে। বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা নিজেদের গ্রুপের তলানিতে শেষ করেছিল। তবে উয়েফা নেশন্স লিগে পারফরম্যান্সের কারণে তারা ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে প্লে-অফের সুযোগ পায়। সেখানে ইউক্রেনকে হারানোর পর নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানে পোল্যান্ডকে পরাজিত কওে মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত করে তারা।
এর আগেও সুইডেন প্লে-অফ জিতে বিশ্বকাপে উঠেছিল, সেবার হারিয়েছিল ইতালিকে। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছায়, যেখানে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার পর সেটিই ছিল আসরটিতে সুইডেনের সেরা সাফল্য।
বাছাইপর্বে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে গত অক্টোবরে আগের কোচ জন ডাল টমাসন বরখাস্ত হন। তবুও পটারের অধীনে দলটি নিয়ে আশাবাদী সমর্থকেরা।
সুইডিশ ক্লাব ওস্টারসুন্ডসে নিজের নাম তৈরি করা ইংলিশ কোচ পটার প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম
থেকে বরখাস্ত হওয়ার কিছুদিন পর জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন।
পটার বলেন, “এটি ছিল ভেঙে পড়া একটি দল। একাধিক দিক থেকেই। ফুটবল কীভাবে বদলে যেতে পারে, এটি তারই প্রমাণ। তবে ভোরের আগে রাত সবচেয়ে অন্ধকার হয়।”
তিনি আরও বলেন, “একজন কোচ হিসেবে আমাকে সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। খেলোয়াড়দের মধ্যে সাহস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে, ভয় দূর করতে হবে এবং সব সময় খেলাটা উপভোগ করার চেষ্টা করতে হবে।”
আর্সেনালে ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পাওয়া গিওকেরেস ইউক্রেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর পোল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়সূচক গোল করেন। অন্যদিকে নিউক্যাসল থেকে বড় অঙ্কের চুক্তিতে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর চোটে ভরা প্রথম মৌসুম কাটানো ইসাক এখনও পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
১৪ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালুপেতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিযয়ে সুইডেন তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। ছয় দিন পর হিউস্টোনে নেদারল্যান্ডস এবং ২৫ জুন টেক্সাসের আরলিংটনে জাপানের মুখোমুখি হবে।
তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস এই গ্রুপ থেকে উত্তরণের সবচেয়ে বড় দাবিদার। তারা টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে, যার মধ্যে বাছাইপর্বের আটটি ম্যাচই জয় পেয়েছে।
রোনাল্ড কোম্যানের দল সাম্প্রতিক দুটি বড় টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়।
২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে তারা আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হারে, আর ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হতাশাজনক পরাজয় বরণ করে।
জাপান টানা অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপে সহজেই জায়গা করে নিয়েছে। ১৬টি বাছাই ম্যাচে তারা মাত্র একবার হেরেছে এবং মাত্র তিনটি গোল হজম করেছে।
‘ব্লু সামুরাই’রা গত দুই বিশ্বকাপেই শেষ ষোলোতে উঠেছে এবং এবারের আসরেও তারা সহজ প্রতিপক্ষ হবে না।
হাজিমে মোরিয়াসুর দল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বড় দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক অঘটন ঘটিয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা স্পেন ও জার্মানি- দুই দলকেই হারিয়েছিল।
২০১৮ সাল থেকে জাপানের কোচ থাকা মোরিয়াসু মার্চে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে প্রীতি ম্যাচ জয়ের পর বলেন, “বিশ্বকাপ জেতা সহজ কাজ নয় বলে আমি মনে করি। তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক, আমরা জিততে পারব, এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে।”
গ্রুপ ‘এফ’-এর সবচেয়ে দুর্বল দল হিসেবে ধরা হচ্ছে তিউনিসিয়াকে। এর আগে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে কোনোটিতেই তারা নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। তবে উত্তর আফ্রিকার দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তারা বাছাইপর্বে একটি গোলও না খেয়ে বিশ্বকাপে এসেছে এবং কাতার বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে তাদের চমকপ্রদ জয় যে কাকতালীয় ছিল না, সেটি প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবে।