বাসস
  ২৮ মে ২০২৬, ১৮:৪১
আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ১৮:৫৯

বিশ্বকাপের হতাশা কাটাতে এবার বদ্ধপরিকর জার্মানি

ঢাকা, ২৮ মে ২০২৬ (বাসস) : চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে উঠতে উত্তর আমেরিকায় যাচ্ছে। কারণ গত দুই আসরেই তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল।

২০১৪ সালের ফাইনালে মারাকানায় মারিও গোয়েতজের অতিরিক্ত সময়ের জয়সূচক গোলের পর থেকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জার্মানির সময়টা ছিল খুবই হতাশাজনক।

২০১৮ সালে রাশিয়ায় শিরোপা রক্ষার মিশন শেষ হয়েছিল গ্রুপের তলানিতে থেকে। এরপর চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপেও একই পরিণতি হয় তাদের।

রিও ডি জেনিরোতে ট্রফি জয়ের পর থেকে বিশ্বকাপে জার্মানি মাত্র দুটি ম্যাচ জিতেছে, সুইডেন ও পরে কোস্টারিকার বিপক্ষে।

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-তে নকআউট পর্বে ফিরতে জুলিয়ান নাগেলসমানের দলের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে ২০২৩ আফ্রিকান নেশন্স কাপের চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর এবং বিশ্বকাপে অভিষেক হতে যাওয়া কুরাসাও।

৩৮ বছর বয়সী নাগেলসমান দুই বছর আগে জার্মানির দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটির পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখা গেছে। ফ্লোরিয়ান রিটজ ও জামাল মুসিয়ালার মতো তরুণ প্রতিভা, পাশাপাশি জসুয়া কিমিচ ও এন্টোনিও রুডিগারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা এ উন্নতির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০২৪-এ তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে এবং পরের বছর উয়েফা নেশনস লিগে শেষ চার থেকে বিদায় নিয়েছিল। তবে দুই ক্ষেত্রেই তারা শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেন ও পর্তুগালের কাছে হেরে যায়।

গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে আইভরি কোস্ট। ‘এলিফ্যান্টস’রা ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরছে।

দিদিয়ের দ্রগবা ও ইয়াইয়ার ও কোলো টুরে ভাতৃদ্বয়য়ের সোনালি প্রজন্ম এখন অতীত। তবে এমেরেস ফায়ের বর্তমান দলে এখনও নিকোলা পেপে, আমাদ দিয়ালো ও উইলফ্রিড জাহার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন।

এই শীতে আফকন শিরোপা রক্ষার মিশনে মিশরের কাছে শেষ আটে হেরে ব্যর্থ হলেও আইভরি কোস্ট তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপে যাচ্ছে সম্ভবত নকআউট পর্বে ওঠার সবচেয়ে ভালো সুযোগ নিয়ে। ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা তিনবার তারা গ্রুপে তৃতীয় হয়েছিল।

ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে। কনকাকাফ বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে তারা মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশ হওয়ার গৌরব অর্জনের পর তাদের গতি কিছুটা থমকে গেছে। মার্চে প্রস্তুতি ম্যাচে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই হারের স্বাদ পায় কুরাসাও।

এছাড়া যিনি দলটিকে বিশ্বকাপে তুলেছিলেন সেই অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট পারিবারিক কারণে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় কুরাসাওকে বিশ্বকাপে খেলতে হবে নতুন কোচ ফ্রেড রুটেনের অধীনে।

ইকুয়েডর দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।  বাছাইপর্বের টেবিলে তারা ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ারও ওপরে ছিল। ফলে ৪৮ দলের এই সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে তারা শুধু অংশ নিতেই আসছে না, বরং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই মাঠে নামবে।