বাসস
  ২৭ মে ২০২৬, ১৯:৩০

বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের চ্যালেঞ্জের শুরুতেই মরক্কো পরীক্ষা

ঢাকা, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটিয়ে ষষ্ঠবারের মত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্রাজিলের স্বপ্ন শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এবং ঐতিহাসিক সাফল্যের খোঁজে থাকা স্কটল্যান্ড গ্রুপ ‘সি’-তে সেলেসাওদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নকআউট পর্বে শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ব্রাজিল এবার দায়িত্ব দিয়েছে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে, যিনি অন্য যে কারও চেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে ষষ্ঠ তারকা যোগ করাই আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য।

আনচেলত্তির স্কোয়াডে নেইমারকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে ব্রাজিলের প্রস্তুতি পর্ব বেশ নাটকীয় হয়ে  উঠেছে। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত তিন বছরে জাতীয় দলে না খেললেও নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তবে মাঠে নেইমারের ভূমিকা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় মূল প্রশ্ন হচ্ছে, আনচেলত্তি কীভাবে ভারসাম্যহীন এই দল থেকে সেরাটা বের করে আনবেন।

গালরক্ষক এ্যালিসন বেকার এবং সেন্টার-ব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালেস ও মারকুইনহোস মিলে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু অতীতের ব্রাজিল দলের তুলনায় ফুল-ব্যাক, সেন্ট্রাল মিডফিল্ড এবং সেন্টার-ফরোয়ার্ড পজিশনে স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে।

বাছাইপর্বে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের শেষ দিকে আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযানে ব্রাজিল ১৮ ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতে হেরেছিল। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচের অধীনে জাপান ও ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হারও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারেনি।

তবে নকআউট ফুটবলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী কোচের সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে। মাদ্রিদে একসঙ্গে কাজ করার সময় আনচেলত্তি ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাছ থেকেও সেরাটা বের করে এনেছিলেন। ক্লাব সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেয়ে ভিনিসিয়াসই এখন ব্রাজিলের একমাত্র বিশ্বমানের আক্রমণভাগের তারকা, যিনি দেশকে গৌরব এনে দিতে পারেন।

তবে উদ্বোধনী ম্যাচেই আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর কাছে হারলে আনচেলত্তির দলের জন্য বিপদসংকেত বেজে উঠবে।

প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। এর কিছুদিন পর ২০২৩ সালে তারা ইতিহাসে প্রথমবার ব্রাজিলকেও হারায়। 

তবে চলতি বছরের শুরুতে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান নেশন্স কাপে বিশৃঙ্খল সমাপ্তির কারণে মরক্কোর গতি থেমে যায়। স্বাগতিকদের পক্ষে ইনজুরি সময়ে পেনাল্টি দেওয়ায় সেনেগাল মাঠ ছেড়ে চলে যায়। 

পরে মাঠে ফিরে ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি মিস করেন এবং অতিরিক্ত সময় শেষে সেনেগাল ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়।

পরবর্তীতে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) বিতর্কিতভাবে মরক্কোকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে, কিন্তু সেই হারের প্রভাব থেকেই যায়।
বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই মার্চে দায়িত্ব ছেড়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোহাম্মদ ওয়াহবি।

২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা স্কটল্যান্ড এবার অঘটন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। স্টিভ ক্লার্কের দলে আছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী অ্যান্ডি রবার্টসন, ইউরোপা লিগজয়ী জন ম্যাকগিন এবং সিরি-আ জয়ী স্কট ম্যাকটমিনে। তাদের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব পেরোনো।

হাইতির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ স্কটদের দুর্দান্ত সূচনার আদর্শ সুযোগ এনে দিচ্ছে।

দারিদ্র্যপীড়ীত ক্যারিবীয় দেশ হাইতি ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরছে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮৩তম স্থানে থাকা হাইতি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্টের আশা করছে, তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে তারা সম্ভবত দুর্বল দল হিসেবেই বিবেচিত হবে।