শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ মে ২০২৬ (বাসস) : ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে মরিয়া হয়ে আছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। আয়োজক হিসেবে ভাগ্য যদি এবারও সহায় হয় তাহলে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করতে পাওে মেক্সিকো। গ্রুপ-এ থেকে নকআউট পর্বে সহজেই ওঠার আশা করছে তারা।
তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজন করা একমাত্র দেশ মেক্সিকো। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত আগের দুই বিশ্বকাপ- ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল।
আগামী ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এস্তাদিও আজতেকায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে মেক্সিকো।
এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।
১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা সাতটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ওঠার ধারাবাহিকতা মেক্সিকোর রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বলছে, গ্রুপ-এ থেকে উত্তরণ তাদের জন্য কঠিন হওয়ার কথা নয়।
যদিও ২০২২ বিশ্বকাপে সেই ধারা ভেঙে যায়। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল মেক্সিকোকে। তবে সাম্প্রতিক ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে দলটি আবারও ছন্দে ফিরছে।
অভিজ্ঞ কোচ জেভিয়ার অগারে এর আগে ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালে তৃতীয়বারের মতো কোচ হিসেবে ফিরে আসেন। তার অধীনে ‘এল ট্রি’ গত বছর কনকাকাফ নেশন্স লিগ ও কনকাকাফ গোল্ড কাপ জয় করার কৃতিত্ব দেখায়।
অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমিনেজ আক্রমণে নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরার হিসেবে ভরসা জোগাচ্ছেন। অন্যদিকে ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গিলবার্টো মোরা টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।
গ্রুপ-এ’তে মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে। তারা টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শেষ করেছে।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর থেকে প্রতিবারই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। কাতার বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলোতেও উঠেছিল এবং এবারও নকআউট পর্বে যাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
প্রধান কোচ হং মিয়ং-বো ২০২৪ সালে জার্গেন ক্লিন্সম্যানের এক বছরের মেয়াদের পর দায়িত্ব নেন। তার দলে ইউরোপভিত্তিক বেশ কয়েকজন খেলোয়া রয়েছেন। বিশেষ কওে পিএসজির লি ক্যাং-ইন ও বায়ার্ন মিউনিখের কিম মিন-জায়ের ওপর সহজেই ভরসা করা যায়।
আক্রমণে সাবেক স্পার্স ফরোয়ার্ড সং হেয়াং-মিন গোলের প্রধান ভরসা হবেন। তবে লস এ্যাঞ্জেলস এফসির হয়ে চলতি মৌসুমে গোল করতে না পারায় তিনি বাজে ক্লাব ফর্ম নিয়েই বিশ^কাপে খেলতে আসছেন।
গ্রুপের একমাত্র ইউরোপীয় দল চেক প্রজাতন্ত্রের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাদের বাছাইপর্ব ছিল বেশ এলোমেলো, যার মধ্যে ফারো আইল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলের চমকপ্রদ হারও ছিল। ওই হারের পর গত অক্টোবরে কোচ ইভান হাসেক বরখাস্ত হন।
৭৪ বছর বয়সী মিরোস্লাভ কুবেক তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং পরে প্লে-অফে আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্ককে হারিয়ে দলকে বিশ্বকাপে তোলেন। দুটি ম্যাচই টাইব্রেকারে জিতেছিল চেকরা।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা এবার মাত্র চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে এবং ২০১০ সালে স্বাগতিক হওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম অংশগ্রহণ।
‘বাফানা বাফানা’ কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। তবে ৭৪ বছর বয়সী বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রুসের অধীনে তারা এবার সেই ইতিহাস বদলাতে চাইবে। ব্রুস ২০১৭ সালে ক্যামেরুনকে আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা উপহার দিয়েছিলেন।