শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ মে ২০২৬ (বাসস) : মিকেল আর্তেতা এখনও আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা উদযাপনের মুহূর্ত থেকে বের হতে পারেননি। এরই মধ্যে তিনি তার খেলোয়াড়দের আরও ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন- এবার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়।
রোববার মৌসুমের শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর আবেগঘন পরিবেশে প্রিমিয়র লিগ ট্রফি হাতে পায় আর্সেনাল। সেলহার্স্ট পার্কে গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও নোনি মাদুয়েকে গানার্সদের হয়ে গোল করেন। এই জয়ে আর্সেনালা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে সাত পয়েন্ট এগিয়ে মৌসুম শেষ করে।
মঙ্গলবার বোর্নমাউথের সঙ্গে সিটির ড্রয়ের পরই ২২ বছর পর প্রথম ইংলিশ লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছিল আর্সেনাল। তবে ট্রফি হাতে পাওয়ার মুহূর্তটাই ছিল আর্তেতা ও তার দলের জন্য বিশেষ কিছু। দক্ষিণ লন্ডনের রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে তারা নিজেদের অর্জনের বিশালতা উপভোগ করেন।
অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড লাল-সাদা ফিতায় মোড়ানো ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন, আর স্টেডিয়ামের এক কোণে জড়ো হওয়া হাজারো উচ্ছ্বসিত আর্সেনাল সমর্থক আনন্দে ফেটে পড়েন।
আনন্দে আত্মহারা খেলোয়াড়রা আর্তেতাকে কাঁধে তুলে নেন।
আর্সেনালের এই উদযাপন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এরপর ‘২৬ চ্যাম্পিয়ন’ লেখা গানার্স জার্সি পরে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন আর্তেতা।
গলায় মেডেল ঝুলিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটাকে ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন। কী অসাধারণ একটা মুহূর্ত। অনেক আবেগ, অনেক আনন্দ, গর্ব। আমরা যেভাবে এটা অর্জন করেছি, তা খেলোয়াড়দের অনুভূতির প্রতিফলন এবং এ কারণেই এই জাদুকরী ঘটনা সম্ভব হয়েছে। আমি আনন্দিত এবং স্বস্তি অনুভব করছি। এই যাত্রায় আমরা বিশাল কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা অনেক মূল্যবান কিছু অর্জন করেছি।
কিন্তু দিনের শেষে আমরা এখানে বড় ট্রফি জিততেই এসেছি। সেটাই ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য। আমরা খুব কাছাকাছি গিয়েছিলাম। তিনবার আমরা ব্যর্থ হয়েছি, যা খুব কষ্টদায়ক ছিল। তবে আমি মনে করি, সেটাই আমাদের সবাইকে নতুন পথ খুঁজে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে এবং নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে সাহায্য করেছে। তাই আমি বলছি, আমরা যেভাবে এটা করেছি, তা এটাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।”
আর্তেতা অবশেষে আর্সেনালের ছয় বছরের ট্রফিখরা কাটিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, টানা তিনবার রানার্সআপ হওয়ার পর কখনও কখনও তারও সন্দেহ হয়েছে দলটি আদৌ শিরোপা জিততে পারবে কি না।
তবে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্খী এই কোচ এখনই থেমে থাকতে রাজি নন।
তিনি বলেন, “আমি ছেলেদের বলেছি, এই জার্সি এখন ভিন্ন কিছু প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা এখন চ্যাম্পিয়ন, আর এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস, উপস্থিতি এবং শক্তিকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।
তবে এর সঙ্গে আরও বড় দায়িত্বও এসেছে। এখন আমার এবং ক্লাবের সবার কাজ হবে মান আরও উঁচুতে তোলা এবং আরও বেশি অর্জন করা, কারণ আমি বিশ্বাস করি আমরা সেটা করতে সক্ষম।”
এবার আর্তেতার লক্ষ্য, আর্সেনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়।
শনিবার বুদাপেস্টে পিএসজির বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে আর্সেনাল। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে হারের পর এটি হবে গানারদের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল।
গত মৌসুমের সেমিফাইনালে তাদের হারানো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকেও হারানো সম্ভব বলে মনে করেন আর্তেতা, যদি তার দল লিগ জয়ের ইতিবাচক আবহকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
তিনি বলেন, “আমাদের এই শক্তির প্রবাহ বজায় রাখতে হবে, আর এর বিরুদ্ধে যাওয়া হবে বড় ভুল।
আমরা ইতোমধ্যে বুদাপেস্টে কী করতে হবে তা নিয়ে কথা বলেছি, কিভাবে আমরা সবার ভেতরে থাকা এই অসাধারণ শক্তিকে ফাইনালের জন্য কাজে লাগাব। আগামীকাল থেকেই আমরা প্রস্তুতি শুরু করব।
আমরা আমাদের ক্লাবের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জিততে আর অপেক্ষা করতে পারছি না।”