বাসস
  ২৫ মে ২০২৬, ১৯:৫৭

আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতি বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলতে পারে

ঢাকা, ২৫ মে ২০২৬ (বাসস) : তীব্র গরম, আর্দ্রতা এবং বজ্রঝড়- উত্তর আমেরিকার অনেক অঞ্চলে গ্রীষ্মের স্বাভাবিক চিত্র। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এবারের টুর্নামেন্টটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে এমন কিছু শহর রয়েছে, যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায় এবং দমবন্ধ করা আর্দ্রতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।

এদিকে কানাডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো এলাকায় নিয়মিত দাবানল বায়ুর মানের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।

এর সঙ্গে আছে বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমক। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন ঝড় প্রায়ই আউটডোর খেলাধুলায় বিঘ্ন ঘটায়।

সাধারণত কোনো স্টেডিয়ামের প্রায় আট থেকে ১০ মাইল (১৩ থেকে ১৬ কিলোমিটার) এলাকার মধ্যে বজ্রপাত হলে বাধ্যতামূলকভাবে ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখা হয়। এরপর আবার বজ্রপাত হলে নতুন করে আরও আধাঘণ্টা বিরতি শুরু হয়।

এবারের টুর্নামেন্টের মহড়া হিসেবে বিবেচিত গত বছরের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ছয়টি ম্যাচ বিলম্বিত হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় এ ধরনের ঘটনা আরও সাধারণ হয়ে উঠতে পারে।

ক্লাব বিশ্বকাপের বারবার খেলা বিলম্বিত হওয়ায় কিছু সমালোচক ও কোচ প্রশ্ন তুলেছিলেন, আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের এমন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা উচিত কি না।

তৎকালীন চেলসি কোচ এনজো মারেসকা এসব বিলম্বকে “প্রহসন” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এতে খেলোয়াড়দের মনোযোগ নষ্ট হয়। একইসাথে তিনি প্রশ্ন তোলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহর বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য উপযুক্ত কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশটিতে বজ্রপাতে ৪৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে বাইরে অবসর কাটানোর সময়।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ঝড়ের ধরনে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে এবং বজ্রপাত আরও ঘন ঘন ঘটার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বজ্রপাত গবেষক জিকিন ডিং বলেন, স্টেডিয়ামগুলো সাধারণত বজ্রনিরোধকসহ নানা সুরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত থাকে। এসব ধাতব যন্ত্র বজ্রপাতের আঘাত ধরে ক্ষতিকর বিদ্যুৎ নিরাপদে মাটিতে ছড়িয়ে দেয়, ফলে স্থাপনার ক্ষতি বা আগুন লাগা ঠেকানো যায়।

তবে স্টেডিয়ামের আশপাশে বজ্রপাত হলেও খেলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান।

ফিফা ঝড় বা অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকি কমাতে আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টোন, লস এ্যাঞ্জেলস ও ভ্যাঙ্কুভারে কিছু ছাদযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়াম ব্যবহার করবে। তবে অনেক স্টেডিয়ামেই খেলা হবে খোলা আকাশের নিচে। ফলে খেলা বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড় ও দর্শকদের তীব্র গরম সহ্য করতে হতে পারে। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের সময় অনেক ম্যাচ ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি তাপমাত্রায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ফিফা প্রতিটি অর্ধে ‘কুলিং ব্রেক’ বা শরীর ঠান্ডা করার বিরতি বাধ্যতামূলক করেছে।

নরওয়ের বর্তমান ও সাবেক একদল পেশাদার ফুটবলার সম্প্রতি ফিফার কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরম “মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, পেশিতে খিঁচুনি এবং আরও গুরুতর সমস্যা” তৈরি করতে পারে।

তারা ফিফাকে বিশ্বকাপের ‘হিট-স্ট্রেস ফ্রেমওয়ার্ক’ হালনাগাদের আহ্বান জানান এবং বলেন, এর সঙ্গে “ধারাবাহিক জলবায়ু পদক্ষেপ” যুক্ত করতে হবে।