শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ মে ২০২৬ (বাসস) : সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার। নাটকীয় ভাবে নেইমারের এই ফিরে আসা সমর্থকদের মনেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর আবারও জাতীয় দলে ফিরলেন নেইমার।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি ২৬ সদস্যের যে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষনা করেছেন তাতে সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের নাম ১২৮ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করা সুপারস্টার নেইমার।
রিও ডি জেনিরোতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনচেলত্তি তার বিশ্বকাপ দল ঘোষনা করেন। নেইমারের নাম ঘোষনার সাথে সাথে পুরো মিলনায়তন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
৩৪ বছর বয়সী বার্সেলোনা ও পিএসজি এ্যাটাকার নেইমার আদৌ চতুর্থবারের মত বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন কিনা তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই শঙ্কা ছিল। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে ভরসার নাম নেইমার এবারও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে গিয়ে হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে পড়ে নেইমার জাতীয় দল থেকে ছিটকে যান।
ইনজুরির পাশাপাশি বাজে ফর্মের কারনে আনচেলত্তি জাতীয় দলে নেইমারের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সন্দেহ পোষন করেন। যে কারনে মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের দল থেকে তিনি নেইমারকে বাদ দেন।
সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক শেষ করে জানুয়ারিতে শৈশকের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার। এখন দেখার বিষয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের দলে নেইমার আনচেলত্তির আস্থা কতটা অর্জণ করতে পারেন।
এ সম্পর্কে আনচেলত্তি বলেন, ‘সারা বছর আমরা নেইমারকে পর্যবেক্ষনে রেখেছি। সাম্প্রতিক সময়ে তার মধ্যে ধারাবাহিকতা ফিরে এসেছে এবং তার শারিরীক কন্ডিশনেরও উন্নতি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি সে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’
২০২৬ সালে সান্তোসে ফিরে আসার পর ইনজুরির কারনে নেইমার ৩১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।
রেকর্ড ছয়বারের বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামা ব্রাজিল আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। গ্রুপ-সি’র অপর দলগুলো হলো হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের দুই স্ট্রাইকার রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সাথে ব্রাজিলের সম্ভাব্য আক্রমনভাগে সামলাবেন নেইমার।
এদিকে আনচেলত্তি বলেছেন, তার বিশ্বাস বিশ্বকাপ জিতবে সেই দল, যারা সবচেয়ে বেশি “সহনশীল” বা চাপ সামলাতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, “নিখুঁত কোনো দল বিশ্বকাপ জিতবে না। কারণ নিখুঁত দল বলে কিছু নেই। বরং বিশ্বকাপ জিতবে সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে দৃঢ় ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম দল।”
ব্রাজিল স্কোয়াড :
গোলরক্ষক : এ্যালিসন, এডারসন, উইভারটন
ডিফেন্ডার : এ্যালেক্স সান্দ্রো, ডানিলো, লিও পেরেইরা, ব্রেমার, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহেস, ইবানেজ, মারকুইনহোস, ওয়েসলি
মিডফিল্ডার : ব্রুনো গুইমারায়েস, ক্যাসেমিরো, ডানিলো, ফাবিনহো, লুকাস পাকুয়েটা
ফরোয়ার্ড : এনড্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিক, মাথিয়াস কুনহা, নেইমার, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিয়াস জুনিয়র।