শিরোনাম

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ব্লকবাস্টার ফাইনালে নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে প্রথমবরের মত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জয় করেছেন কার্লোস আলকারাজ। এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন এই স্প্যানিশ তারকা। অন্যদিকে ফাইনালে হেরে সার্বিয়ান কিংবদন্তি জকোভিচের রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
ধীরগতির শুরু কাটিয়ে স্প্যানিশ তারকা রড লেভার অ্যারেনায় ৩৮ বছর বয়সী জকোভিচকে ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ সেটে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতে নিঃসন্দেহে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে অবস্থান আরও শক্তিশালী করলেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের মধ্য দিয়ে আধুনিক যুগে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন আলকারাজ। এর আগে তিনি উইম্বলডন ও ফ্রেঞ্চ ওপেন এবং ইউএস ওপেনে দুটি করে শিরোপা জিতেছিলেন। একমাত্র স্ল্যাম শিরোপা হিসেবে এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই এতদিন অধরা ছিল।
২২ বছর বয়সে তিনি নিজ দেশের কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালকে ছাড়িয়ে যান। নাদাল এই কীর্তি গড়েছিলেন ২৪ বছর বয়সে। নাদাল নিজেও এদিন গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন।
সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের মাধ্যমে আলকারাজ জন ম্যাকেনরো ও ম্যাটস উইলান্ডারের পাশে দাঁড়ালেন এবং আন্দ্রে আগাসি, জিমি কনার্স ও ইভান লেন্ডলের চেয়ে মাত্র একটি শিরোপা কম নিয়ে পিছিয়ে রইলেন।
ম্যাচ শেষে আলকারাজ বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার ট্রফি তোলা অবিশ্বাস্য অনুভূতি।”
এরপর টিভি ক্যামেরার লেন্সে তিনি লিখেন : “কাজ শেষ। চারটির চারটিই পূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ঘটনা। আমি সব সময় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা এবং ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করার স্বপ্ন দেখতাম।”
তিনি জকোভিচের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান, “আপনি বলছিলেন আমি কীভাবে এসব করছি, কিন্তু আপনি যা করছেন তা শুধু টেনিস খেলোয়াড়দের জন্য নয়, সারা বিশ্বের ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।”
মেলবোর্নে এটি জকোভিচের প্রথম ফাইনাল হার। এর আগে তিনি এখানে টানা ১০টি ফাইনাল জিতেছিলেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের অপেক্ষা আরও বাড়ল তার।
জকোভিচ সর্বশেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন ২০২৩ ইউএস ওপেনে। এরপর থেকে আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনার গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের উদ্দেশে জকোভিচ বলেন,“সত্যি বলতে আমি ভাবিনি আবার কখনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের সমাপনী অনুষ্ঠানে দাঁড়াতে পারব। গত কয়েক সপ্তাহে আমাকে সামনে এগিয়ে নিতে তোমাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি ইঙ্গিত দেন, এটি হয়তো মেলবোর্ন পার্কে তার শেষ উপস্থিতি হতে পারে, “আগামীকাল কী হবে, ছয় মাস বা এক বছর পর কী হবে, ঈশ্বরই জানেন। তবে এটা ছিল দারুণ এক যাত্রা।”
গ্যালারিতে থাকা নাদালের সঙ্গে মজা করে তিনি বলেন,“স্প্যানিশ কিংবদন্তির সংখ্যা খুব বেশি। আজ মনে হলো আমি একা দুজনের বিপক্ষে খেলছি, এটা ন্যায্য নয়।”
দু’জনই সেমিফাইনালে পাঁচ সেটের দীর্ঘ ম্যাচ খেলেছিলেন। আলকারাজ জেভেরেভের বিপক্ষে এবং জকোভিচ সিনারের বিপক্ষে। তাই ফাইনালে ক্লান্তি কাটিয়ে ফিরে আসা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ফাইনালে কারও মধ্যেই ক্লান্তির তেমন ছাপ দেখা যায়নি।
শেষ পর্যন্ত আলকারাজের এই জয় নিশ্চিত করে যে তিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরেই থাকলেন, সিনার দুইয়ে এবং জকোভিচ এক ধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে উঠে এলেন।