শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ (বাসস) : অধিনায়ক লিটন দাসের হাফ-সেঞ্চুরি এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের ক্যামিও ইনিংসের সুবাদে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। আজ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ডকে। সিরিজে প্রথম ম্যাচ ৩৯ রানে জিতেছিল আইরিশরা।
এ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের ছুঁেড় দেওয়া ১৭১ রানের টার্গেট স্পর্শ করে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নয়া রেকর্ড গড়ল টাইগাররা। এর আগে দেশের মাটিতে গেল বছর শ্রীলংকার বিপক্ষে সিলেটে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করে আয়ারল্যান্ড। ৪.১ ওভারেই দলকে ৫০ রান এনে দেন দুই ওপেনার পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর। টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ রান স্পর্শ করল আইরিশরা।
পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে স্টার্লিংকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ২৯ রান করেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক স্টার্লিং।
স্টার্লিং ফেরার পরও পাওয়ার প্লেতে ৭৫ রান তুলে আয়ারল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে এবারই সর্বোচ্চ রান তুলল আইরিশরা।
নবম ওভারে তৃতীয়বারের মতো আক্রমণে এসে জোড়া উইকেট শিকার করেন স্পিনার মাহেদি হাসান। ঐ ওভারে দুই ভাই টিম টেক্টর ও হ্যারি টেক্টরকে শিকার করেন তিনি। ৪ চার ও ২ ছক্কায় টিম ২৫ বলে ৩৮ এবং আগের ম্যাচের হাফ-সেঞ্চুরিয়ান হ্যারি এবার থামেন ১১ রানে।
নিজের চতুর্থ ও শেষ ওভারেও উইকেটের দেখা পান মাহেদি। স্টাম্পিং করে সাজঘরে ফেরান ব্যাটার বেন ক্যালিটজকে। ৯ বলে ৭ রান করেন তিনি।
১১তম ওভারে ১০৩ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ক্যালিটজ ফেরার পর আয়ারল্যান্ডকে লড়াকু সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন উইকেটরক্ষক লরকান টাকার ও জিওর্জি ডকরেল। পঞ্চম উইকেটে ৪৪ বলে ৫৬ রান যোগ করেন তারা। ২১ বলে ১৮ রান করা ডকরেলকে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
এরপর ইনিংসের শেষ ১০ বল থেকে ১১ রান তুলে আয়ারল্যান্ডকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রানের সংগ্রহ এনে দেন টাকার ও গ্যারেথ ডেলানি। ৪টি বাউন্ডারিতে ৩২ বলে ৪১ রান করে ইনিংসের শেষ ডেলিভারিতে রান আউট হন টাকার। ১টি ছক্কায় ৮ বলে ১০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন ডেলানি।
৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের সেরা বোলার মাহেদি। এছাড়া তানজিম ও সাইফ উদ্দিন ১টি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ১৬ বল থেকে ২৬ রান তোলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। ব্যক্তিগত ৭ রানে প্রথম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তানজিদ।
দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৬০ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন ইমন ও অধিনায়ক লিটন দাস।
দশম ওভারে দলীয় ৮৬ রানে আউট হওয়ার আগে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৮ বলে ৪৩ রান করেন ইমন।
ইমন ফেরার পর বাংলাদেশকে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন লিটন ও সাইফ হাসান। তৃতীয় উইকেটে দুজনে মিলে ৩১ বলে ৫২ রান যোগ করেন। এর সুবাদে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ২৭ বলে ৩১ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের।
এরপর ১৯ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ ১০ বলে ১৪ রান দরকার পড়ে টাইগারদের। ১৯তম ওভারের শেষ তিন বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ১০ রান তুলে ম্যাচের লাগাম বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন সাইফুদ্দিন। এতে শেষ ওভারে ৩ রানের দরকারে চতুর্থ বলে মাহেদির বাউন্ডারিতে ২ বল বাকী থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ। সপ্তম উইকেটে ৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৭ রান তুলে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রাখেন মাহেদি-সাইফুদ্দিন।
৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৭ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন লিটন। এছাড়া সাইফ ২২, তাওহিদ হৃদয় ৬ ও নুরুল হাসান ৫ রান করেন।
২ চার ও ১ ছক্কায় ৭ বলে অনবদ্য ১৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন সাইফুদ্দিন। ৩ বলে অপরাজিত ৬ রান করেন মাহেদি। আয়ারল্যান্ডের মার্ক অ্যাডায়ার ও ডেলানি ২টি করে উইকেট নেন।
একই ভেন্যুতে আগামী ২ ডিসেম্বর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
আয়ারল্যান্ড : ১৭০/৬, ২০ ওভার (টাকার ৪১, টিম টেক্টর ৩৮, মাহেদি ৩/২৫)।
বাংলাদেশ : ১৭৪/৬, ১৯.৪ ওভার (লিটন ৫৭, ইমন ৪৩, ডেলানি ২/২৮)।
ফল : বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা।