শিরোনাম

// রেজাউল করিম মানিক //
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): উত্তরের জেলাগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সবজির জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার আগাম চাষে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় স্বপ্ন বুনছেন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তরের বেশিরভাগ কৃষি জমিতে মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লালশাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষ শুরু হয়েছে। ক্ষেত পরিচর্যা, রোগবালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করছেন এ অঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা।
ইতোমধ্যে বাজারেও আসতে শুরু করেছে কিছু আগাম শীতকালীন সবজি। পাওয়া যাচ্ছে শিম ও বাঁধাকপি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের আট জেলা— রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চলতি মৌসুমে ৩৩ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার টন আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উত্তরের জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে শীতকালীন সবজির চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চল দেশের অন্যতম সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত।
উত্তরে এখনো শীত না নামলেও মাঠে-মাঠে শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজির চাষ। কেউ ব্যস্ত নতুন চারা রোপণে, কেউ ক্ষেত পরিচর্যায়। বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক পরিসরে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। ইতোমধ্যে সবুজে সবুজে ভরে উঠতে শুরু করেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। সারি সারি বিভিন্ন জাতের শাক-সবজিতে শোভা পাচ্ছে উত্তরের কৃষিজমি।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বাসসকে জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। জমিতে বাঁধাকপি ও ধনেপাতা লাগিয়েছেন তিনি। গত বছরের তুলনায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রতি মণ বাঁধাকপি ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকার ধনেপাতা বিক্রি করেছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় ভালো দাম পেয়ে খুশি তিনি।
একই এলাকার আরেক কৃষক আয়নাল মিয়া জানান, তিনি স্বল্প সময়ে বাঁধাকপি, শিম, মূলা, লালশাক ও ধনেপাতার আবাদ করেছেন।
তিনি বলেন, এবার বেশি বৃষ্টি হওয়ায় অনেক কৃষকের আবাদ নষ্ট হয়েছে। তবে আশার কথা, প্রায় সবাই নতুন উদ্যমে আবারও আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন।
রংপুর বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কৃষকদের সবজি চাষে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকিতে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মুনাফা বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাকৃতিক কিছুটা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উত্তরের কৃষকরা নতুন আশা ও উদ্যম নিয়ে মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এবার আগাম শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনের পাশাপাশি কৃষকরাও ভালো দাম পাবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন উত্তরের সবুজ মাঠজুড়ে।