বাসস
  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৫

উত্তরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

ছবি: বাসস

রংপুর, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : কৃষি অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত পরামর্শে উত্তরের জেলাগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সবজির জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার আগাম সবজি চাষে ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় স্বপ্ন বুনছেন। 

গত বছরের ক্ষতকে পিছনে ফেলে মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, লাউ, টমেটো ও লাল শাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে রংপুরের উপজেলাগুলোতে। ক্ষেত পরিচর্যা, রোগ-বালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ইতোমধ্যে বাজারেও উঠেছে শীতকালীন সবজি। পাওয়া যাচ্ছে শিম ও বাঁধাকপি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার বেশি লাভ, অধিক ফলন হবে এমনটাই আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের ৮টি জেলা রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধায়, ঠাকুরগাও ও পঞ্চগড় জেলায় চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হবে ৩ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি।

ছবি: বাসস

উত্তরের জেলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন সবজি চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে রংপুরকে বলা হয় সবজি ভান্ডার। শীত আসার আগেই স্থানীয় চাষিরা আগামজাতের সবজি চাষ করে থাকেন। 

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকদের সবজি চাষে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মনিটরিংয়ে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। এরফলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মুনাফা বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, প্রতি বছর আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেন তিনি। এবার পাতা কপি ও ধনে পাতা চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার ফলনও ভালো। ইতোমধ্যে পাতা কপি ও ধনে পাতা বিক্রি করেছেন তিনি। 
আরেক কৃষক আয়নাল মিয়া জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবার আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তারপরেও তিনি স্বল্প সময়ে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। আগাম সবজির মধ্যে বাঁধাকপি, শিম, মুলা, লালশাক ও ধনেপাতার আবাদ করেছেন তিনি। তবে এবার বৃষ্টি বেশি। অনেক কৃষকের আবাদ নষ্ট হয়েছে। তারা আবার নতুন করে চাষ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

রংপুর বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, আগাম শীতকালীন শাক-সবজির আবাদ কিভাবে বাড়ানো যায়, সে লক্ষ্যে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।