বাসস
  ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৭

বরিশালে উন্নত জাতের পাট চাষে এসেছে ব্যাপক সাফল্য 

ছবি : বাসস

বরিশাল, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনায় এ বছর পরিবেশবান্ধব সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের সুদিন ফিরছে বরিশালে। চলতি মৌসুমে জেলার কৃষকরা পাট চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। কৃষকের সঠিক পরিচর্যা আর অনুকূল আবহাওয়ায় এবার পাটের অধিক ফলন হয়েছে। শুধু ফলনই নয়, বাজারে পাটের ভালো দামে বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা।

চলতি অর্থ বছরে বরিশালে উন্নত জাতের পাট চাষে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। সোনালি আঁশের অধিক ফলনের পাশাপাশি বাজারে মিলছে কাক্সিক্ষত দাম। বিগত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখায় হাসি ফুটেছে এ অঞ্চলের শত শত কৃষকের মুখে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রফিয়াদি গ্রামের জলিল চৌকিদার প্রতি বছরের মত এ বছরও পাটের আবাদ করেছেন। তিনি চলতি মৌসুমে মাঠ থেকে প্রায় ৫০ মণ পাট পেয়েছেন। স্বল্প খরচে অধিক ফলন হওয়ায় খুশি জলিল চৌকিদার। গত বছর যেখানে ১৭শ’ থেকে ১৯শ’ টাকা প্রতিমণ পাট বিক্রি হয়েছে, এ বছর তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩২শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে জলিল চৌকিদার বাসাসকে বলেন, একসময় আমাদের জেলায় পাটের খুব কদর ছিল। গ্রাম বাংলার বেশিরভাগ কৃষকই পাট চাষ করতেন। কিন্তু পাটের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে বর্তমান সময়ে কৃষকরা পাট চাষে আবারো আগ্রহী হচ্ছেন। সল্প খরচে বেশি ফলন ও ভালো লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা। 

আরজি কালিকাপুর গ্রামের রহিম বলেন, জেলায় পাটের সুদিন ফিরেছে। এবছর মাঠে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছি। এভাবে দাম থাকলে আমাদের জন্য ভালো।

বাচ্চু খান নামের আরেক কৃষক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে পাটের দাম পাই নাই, তাই খরচই ওঠে নাই। কিন্তু এইবার বিনা তোষাপাট রোপণ করে বিঘায় ১০-১২ মণ করে ফলন পাইছি। বাজারের দামও খুব ভালো, আমরা খুব খুশি।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে মানভেদে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রী বর্জনের সরকারি কড়াকড়ি এবং পাটের তৈরি চটের ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ব্যাপারীরাও প্রতিযোগিতা করে ভালো দামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বরিশাল জেলায় ১২ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমির পাট কাটা হয়েছে। এ বছর পাটের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৫৯১ হেক্টর।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে দেয়া তথ্য বলছে, জেলা সদরে ৯২০ হেক্টর, বাবুগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ১০০ হেক্টর, উজিরপুরে ২১৫ হেক্টর, বাকেরগঞ্জে ৪ হেক্টর, গৌরনদীতে ৬৫৫ হেক্টর, আগৈলঝাড়ায় ৭০ হেক্টর, মুলাদীতে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর, হিজলায় ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর, মেহেন্দীগঞ্জে ৩ হাজার ৪৯০ হেক্টর এবং বানারীপাড়ায় ৫২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

এবছর উন্নত জাতের পাটের পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ‘বিনা তোষাপাট-১’ এর ও অধিক ফলন হয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দিতেও কোনো বেগ পেতে হয়নি কৃষকদের। ফলে পাটের আঁশের রঙ হয়েছে উজ্জ্বল এবং গুণগত মানও হয়েছে চমৎকার বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল খামার বাড়ির উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম বেগম বাসসকে বলেন, পাট চাষিদের জন্য আমরা নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ বছর বরিশালে পাটের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। আমরা চাষিদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছি। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে জেলায় উন্নত জাতের পাট চাষে এ বছর ব্যাপক সাফল্য এসেছে। 

সঠিক সরকারি তদারকি, উন্নত বীজ আর ন্যায্য বাজার মূল্য বজায় থাকলে সোনালি আঁশ আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।