বাসস
  ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:১৫

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণে সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে চলছে

চট্টগ্রাম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন ভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ গতি পেয়েছে। 

১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ২৩ কিলোমিটার অংশ প্রাথমিকভাবে ছয় লেনে উন্নীত করার এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রাথমিক পর্যায়ে যানবাহনের চাপ বেশি এমন পাঁচটি এলাকায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কাজ চলছে। এলাকাগুলো হলো- পটিয়া বাইপাস, দোহাজারী, কেরানীহাট, লোহাগাড়া ও চকরিয়া। 

এসব এলাকায় যানজট কমাতে সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি জাতীয় মহাসড়ক এন-১ হিসেবে পরিচিত। মহাসড়কটির বিভিন্ন অংশ সরু এবং বেশ কিছু স্থানে বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত তিন বছরে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চুনতিসহ কয়েকটি এলাকায় এসব বিপজ্জনক বাঁকে অন্তত ২০০ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা  ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

চলতি বছরের ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এরপর প্রকল্পের জরিপ কার্যক্রমে গতি আসে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সরকার প্রধানের এ ঘোষণা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যানজট ও দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার, মাতারবাড়ী ও চট্টগ্রামে দিন দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা জরুরি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ হবে, যাতায়াতে সময় কমবে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটন, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে তিনি জানান।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ মহাসড়কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় শুধু ছয় লেনে উন্নীত করাই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি বিকল্প সংযোগ সড়ক নির্মাণও জরুরি।

মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি চালু হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আবু ঈসা আনসারী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতে বন্দর, শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের কথা বিবেচনায় নিয়ে ছয় লেনের পাশাপাশি দ্বিতীয় একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ছয় লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে জরিপ ও অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। 

যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের প্রায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। 

আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার ছয় লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া মহাসড়কের অবশিষ্ট প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। এ অংশের উন্নয়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।