শিরোনাম

॥ আবু মোশাররফ ॥
চট্টগ্রাম, ৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সংসদীয় গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম আর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সবসময় চট্টগ্রামকে এগিয়ে রেখেছেন। দেশের মহান স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা ‘জিয়া পরিবার’ বরাবরই চট্টগ্রামের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন তার সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির শুরুটা করতেন চট্টগ্রাম থেকে, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও গত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের বড় কমসূচি সবসময় শুরু করেছেন চট্টগ্রাম থেকে। একই পথে হাঁটছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ৬ মাসের মধ্যেই আগামীকাল ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে দিনব্যাপী কর্মসূচি রেখেছেন। তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন বাড়ি উপহার দেবেন, ত্রাণ বিতরণ করবেন এবং প্রতিবন্ধীদের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে নগদ টাকা তুলে দেবেন।
চট্টগ্রামে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বাসসকে বলেন, ‘১৯৭১ সালে জাতীয় ইতিহাসের চরম এক সন্ধিক্ষণে দেশ যখন নেতৃত্বশূন্য তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর ঘোষণাতেই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ, নয় মাস সশস্ত্র লড়াইয়ের পর দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
’৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে তিনি চট্টগ্রামের মেধাবী, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতাদের সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশেষ অগ্রাধিকার দিতেন এবং এখানকার নেতাদের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। চট্টগ্রামের প্রতি জিয়াউর রহমান এতটাই নির্মোহ আবেগ রাখতেন যে, এই অঞ্চলকে সবচেয়ে আপন বলে ভাবতেন।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ১৯৮১ সালের ৩০ মে ‘একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের’ হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসেই শাহাদাত বরণ করেন তিনি।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনিও চট্টগ্রামের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামকেই এগিয়ে রাখছেন।’
‘জিয়া পরিবার ও চট্টগ্রামের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আজ বাসসকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও জিয়া পরিবার যেন একই সূত্রে গাঁথা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে গভীর আবেগ এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছেন হাজার বছর মানুষ তা ধারণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক দর্শনের বেশিরভাগই চট্টগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন। আমাদের মরহুম প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব সময় এখানকার মানুষ ও নেতাদের প্রতি অনুরাগী ছিলেন।’
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব মানুষের জন্যই চিন্তা করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশের সবার ভাগ্য বদলানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর মাঝেও চট্টগ্রামের প্রতি তার ভালোবাসা আমরা টের পাই। এখানকার মানুষে যে কোনো প্রয়োজন নিয়ে কথা বললে তিনি সাথে সাথে এগ্রি (রাজি) করেন। তবে তিনি চান বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে।’
বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া, বর্তমান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার আজ বাসসকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামকে কতটা ভালোবাসতেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ তিনি ১৯৭৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বসেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’
‘তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংকটকালের নেতা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দিকে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন ব্যর্থ হয়, যখন দেশের সামনে ঘোর অন্ধকার; ঠিক তখনই জাতীয় মঞ্চে ত্রাতার ভূমিকায় সামনে আসেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। তার স্বাধীনতার ঘোষণার ফলেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। চট্টগ্রামের সাথে জিয়া পরিবার সেই থেকে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আছে, বেগম খালেদা জিয়া থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সব ক্ষেত্রে চট্টগ্রামকে এগিয়ে রেখেছেন।’
গোলাম আকবর খোন্দকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৯৭৯ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় প্রথম সভায় উপস্থিত থাকা চট্টগ্রামের নেতাদের মধ্যে আমরা কেবল দুইজন এখনও বেঁচে আছি। একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং অপরজন আমি।’
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বাসসকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব ভালো অর্জন জিয়া পরিবারের অবদান। খুব বাস্তবসম্মত কারণে চট্টগ্রাম জিয়া পরিবারের আবেগের ঠিকানা। আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার কাছে চট্টগ্রামের মানুষের প্রয়োজনের কথা যখনই বলা হয়েছে সাথে সাথে উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চট্টগ্রামকে সমান গুরুত্ব দেন।’
চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ আজ বাসসকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই চট্টগ্রামেই শাহাদাত বরণ করেছেন। তাই চট্টগ্রামবাসী জিয়া পরিবারের কাছে ‘রক্তের ঋণে’ আবদ্ধ। এর প্রতিদান দিতে গিয়ে চট্টগ্রামবাসী বারবার নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে এবং সংকটকালে বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে।’
‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ভূ-কৌশলগত কারণে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তাঁর সময়েই এখানে বড় বড় উন্নয়ন হয়েছে। তিনি শাহাদাত বরণ করার পর জিয়া পরিবার যখনই ক্ষমতায় এসেছে চট্টগ্রামের উন্নয়ন হয়েছে। জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য শের শাহ এলাকায় হাজার কোটি টাকার জায়গা দিয়েছেন, প্রেস ক্লাবের জন্য জায়গা ও অনুদান দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নির্মাণ হয়, তিনি কল্পলোক আবাসিকে সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য জায়গা দিয়েছেন।’
‘চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান লালদীঘি ময়দানে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দিয়েছেন। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেছেন, নোমান সাহেব ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চট্টগ্রামেকে যে গুরুত্ব দিচ্ছেন তার প্রমাণ হচ্ছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম থেকে নিযুক্ত করার করেছেন এবং চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করেছেন। চট্টগ্রামের প্রতি জিয়া পরিবারের ভালোবাসার শেকড় অনেক গভীরে।’