বাসস
  ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫১

হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

ছবি : বাসস

রোস্তম আলী মন্ডল

দিনাজপুর, ১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)র অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসিফ মাহমুদের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে  গেছে। 

আসিফ মাহমুদ এ গবেষণায় ৪ বার ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তিনি প্রতিবারই নতুন উদ্যমে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার হাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছেছে। 

তার প্রতিষ্ঠিত সামাজিক উদ্যোগ ভিত্তিক স্টার্ট আপ সুপারজেন এবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) আয়োজিত ইমাজেন ভেনচারস গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে।

হাবিপ্রবির অফিস সূত্র জানায়, এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশ নিয়ে গ্লোবাল ফান্ডিং, আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সুপারজেন।

আসিফ মাহমুদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথটি খুব একটা সহজ ছিল না। গত বছর  ‘ইমাজেন ভেনচারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ’ এ রংপুর বিভাগের ১৩২টি দলকে পেছনে ফেলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয় সুপারজেন। পরে জাতীয় পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি সেরা দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এ প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সাফল্যের পথে আসে বড় এক ধাক্কাও। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ থেকে জানানো হয়, গ্লোবাল রাউন্ডে মাত্র একটি দল অংশ নেবে এবং সেই তালিকায় সুপারজেন নেই। এত বাধা বিপত্তির পরও হতাশ না হয়ে নিজেদের কাজ চালিয়ে যান আসিফ ও তার দল। প্রায় ৬ মাস পর ইউনিসেফ বাংলাদেশ নতুন সিদ্ধান্ত নেয়।একটির পরিবর্তে দুটি দল গ্লোবাল রাউন্ডে অংশ নেবে। আর দ্বিতীয় দল হিসেবে নির্বাচিত হয় সুপারজেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যও অর্জন করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে পরিচালিত ‘GO4IMPactবাসস দেশ-৫১ 
দিনাজপুর-হাবিপ্রবি-গবেষণা-মাহমুদ 
হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

॥ রোস্তম আলী মন্ডল ॥

দিনাজপুর, ১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)র অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসিফ মাহমুদের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে  গেছে। 

আসিফ মাহমুদ এ গবেষণায় ৪ বার ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তিনি প্রতিবারই নতুন উদ্যমে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার হাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছেছে। 

তার প্রতিষ্ঠিত সামাজিক উদ্যোগ ভিত্তিক স্টার্ট আপ সুপারজেন এবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) আয়োজিত ইমাজেন ভেনচারস গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে।

হাবিপ্রবির অফিস সূত্র জানায়, এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশ নিয়ে গ্লোবাল ফান্ডিং, আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সুপারজেন।

আসিফ মাহমুদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথটি খুব একটা সহজ ছিল না। গত বছর  ‘ইমাজেন ভেনচারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ’ এ রংপুর বিভাগের ১৩২টি দলকে পেছনে ফেলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয় সুপারজেন। পরে জাতীয় পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি সেরা দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এ প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সাফল্যের পথে আসে বড় এক ধাক্কাও। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ থেকে জানানো হয়, গ্লোবাল রাউন্ডে মাত্র একটি দল অংশ নেবে এবং সেই তালিকায় সুপারজেন নেই। এত বাধা বিপত্তির পরও হতাশ না হয়ে নিজেদের কাজ চালিয়ে যান আসিফ ও তার দল। প্রায় ৬ মাস পর ইউনিসেফ বাংলাদেশ নতুন সিদ্ধান্ত নেয়।একটির পরিবর্তে দুটি দল গ্লোবাল রাউন্ডে অংশ নেবে। আর দ্বিতীয় দল হিসেবে নির্বাচিত হয় সুপারজেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যও অর্জন করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে পরিচালিত ‘এঙ৪ওগচধপঃ’ কর্মসূচির অধীনে ব্লু বিজনেস আইডিয়া কমপিটিশন-এর মাধ্যমে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এবং সুইস কনটাক্ট বাংলাদেশ এর সাথে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি করেছে সুপারজেন।

সূত্র আরও জানায়, চুক্তির প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানটির হাতে ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। ৬ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ১০০টি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়াও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ব্লু বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশন এ জাতীয় পর্যায়ে  সেরা ৭টি দলের একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সুপারজেন।

উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বাসসকে বলেন, বর্তমান উদ্যোগের আগে আমি ৪টি স্টার্টআপে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতা তাকে নতুনভাবে শুরু করার সাহস জুগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘হাল না ছেড়ে আরেকবার চেষ্টা করার মানসিকতাই আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার গবেষণা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের শিক্ষা নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান টেক ফর বাংলাদেশ-এর ফেলোশিপের জন্যও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

আসিফ তার এ সাফল্যের পেছনে বিশেষ করে ‘এঙ৪ওগচধপঃ’ এর প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মো. সাইদুজ্জামান পুলাকের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার টিম সদস্য রফিকুল ইসলাম রাকিব, রাইজুল ইসলাম তানভীর, খায়রিন মির্জা, তানজিলা ইসলাম রিফা এবং বিজনেস মডেলিং ও ফান্ডরেইজিংয়ে সহযোগিতাকারী ওমর ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভবÑহাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মো. আসিফ মাহমুদের এই গবেষণার সাফল্য সেই সম্ভাবনারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বাসস/এনডি/সংবাদদাতা/বিপ্র/১৭৪০/এমএসআর/-এমজে

’ কর্মসূচির অধীনে ব্লু বিজনেস আইডিয়া কমপিটিশন-এর মাধ্যমে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এবং সুইস কনটাক্ট বাংলাদেশ এর সাথে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি করেছে সুপারজেন।

সূত্র আরও জানায়, চুক্তির প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানটির হাতে ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। ৬ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ১০০টি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়াও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ব্লু বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশন এ জাতীয় পর্যায়ে  সেরা ৭টি দলের একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সুপারজেন।

উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বাসসকে বলেন, বর্তমান উদ্যোগের আগে আমি ৪টি স্টার্টআপে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতা তাকে নতুনভাবে শুরু করার সাহস জুগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘হাল না ছেড়ে আরেকবার চেষ্টা করার মানসিকতাই আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার গবেষণা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের শিক্ষা নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান টেক ফর বাংলাদেশ-এর ফেলোশিপের জন্যও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

আসিফ তার এ সাফল্যের পেছনে বিশেষ করে ‘GO4IMPact’ এর প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মো. সাইদুজ্জামান পুলাকের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার টিম সদস্য রফিকুল ইসলাম রাকিব, রাইজুল ইসলাম তানভীর, খায়রিন মির্জা, তানজিলা ইসলাম রিফা এবং বিজনেস মডেলিং ও ফান্ডরেইজিংয়ে সহযোগিতাকারী ওমর ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব-হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মো. আসিফ মাহমুদের এই গবেষণার সাফল্য সেই সম্ভাবনারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।