শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের অবস্থানও ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এ উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক জলসীমা থেকে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে এসেছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে, যার ৮৪ শতাংশই পাওয়া যায় মৎস্যচাষ থেকে।
বিশ্বের মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে এশিয়া। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ।
২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর ৫৩ শতাংশ এসেছে মৎস্যচাষ থেকে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে। এই উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।
মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনের ৬১ শতাংশ বা ১১ কোটি ৮০ লাখ টন এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। বাকি ৩৯ শতাংশ বা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে।
অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে ২০২৪ সালে ২২ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারত। ১৪ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্যচাষ খাতে উৎপাদন রেকর্ড ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট উৎপাদনের মধ্যে জলজ প্রাণী ১০ কোটি ৩০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর শৈবাল উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৯২ শতাংশই হয়েছে এশিয়ায়। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া।
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হল- চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এসব দেশ বিশ্বের ৮৪ শতাংশ মাছ উৎপাদন করেছে।
২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর চাষও রেকর্ড ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এটি বৈশ্বিক জলজ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিই তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশের জোগান দিয়েছে। এরপর রয়েছে ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ। এই পাঁচ দেশ মিলে মোট উৎপাদনের ৮২ শতাংশ সরবরাহ করেছে।
মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশই ছিল পাখনাযুক্ত মাছ। ৯ শতাংশ ছিল খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী। আর বাকি অংশ ছিল জলজ কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যচাষে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণী উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিল মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী।