বাসস
  ২৩ জুন ২০২৬, ১৪:৩৭
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১৬:৫৩

বিটিভির ‘রঙের বাজার’ মাতিয়ে দেশজুড়ে সুনাম কুড়াচ্ছেন নওগাঁর বাউল শাহিন

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভঁড়তেঁতুলিয়া গ্রামের সন্তান বাউল শাহিন। ছবি: বাসস

॥ বাবুল আখতার রানা ॥

নওগাঁ, ২৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : কৈশোরের সেই মনের অজান্তে গুনগুন করে গাওয়া গানই আজ জীবনের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভঁড়তেঁতুলিয়া গ্রামের সন্তান বাউল শাহিনের। নদী মাতৃক এই জনপদের মাটির সুর বুকে ধারণ করে তিনি আজ শুধু নিজ এলাকাতেই নন, বরং বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গান গেয়ে কুড়াচ্ছেন ব্যাপক সুনাম।

বাউল শাহিন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভঁড়তেঁতুলিয়া গ্রামের মো. আব্দুস সামাদ বাবলুর ছেলে। মা,বাবা, স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে তাঁর পরিবার। পারিবারিক ও সংসারের নানা টানাপোড়েনের মাঝেও মাটির গানকে ভালোবেসে আজ তিনি একজন জনপ্রিয় বাউল শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তাঁর সংগীতে আসার গল্পটা বেশ চমৎকার। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পদার্পণের পরই শাহিন বুঝতে পারেন গানই তাঁর জীবনের সবকিছু। এরইমাঝে তিনি যুক্ত হন স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রঙধনু একাডেমি’র সাথে। সেখানেই মূলত তাঁর গানের হাতে খড়ি। এরপর তিনি সান্নিধ্য পান বাংলাদেশ টেলিভিশনের খ্যাতনামা গীতিকার ও সুরকার আনিসুর রহমান আনিসের। শ্রদ্ধেয় এই শিক্ষা গুরুর হাত ধরেই বাউল শাহিনের সংগীত জগতে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাউল শাহিন বাসস’কে বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষা গুরু আনিসুর রহমান আনিস স্যার আমাকে হাত ধরে সংগীতে এনেছেন। তিনি সাহায্য না করলে হয়তো আমার পক্ষে বাউল সাধনা করা সম্ভব হতো না। প্রথম দিকে যখন স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতাম, তখন থেকেই বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীদের দারুণ অনুপ্রেরণা পেতাম।

মাঝে সংসার ও পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে বহুবার ভেবেছি সংগীত জগৎ হয়তো আমার জন্য নয়, কিন্তু গুরুজি ও শুভাকাক্সক্ষীদের ভালোবাসায় গান আজ আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, নিজ এলাকায় স্টেজ প্রোগ্রাম দিয়ে গানের যাত্রা শুরু হলেও বাউল শাহিন তাঁর জাদুকরী কণ্ঠের জাদু ছড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তাঁর সংগীত জীবনে আসে এক বড় সাফল্য। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘রঙের বাজার’-এ গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। দেশের বিখ্যাত সংগীত সম্পাদক হাসান মতিউর রহমানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন শাহিন।

সংগীতের এই দীর্ঘ পথচলায় নিজের অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করে শাহিন আরও বলেন, আমার সংগীতে আসার পেছনে যিনি সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তিনি হলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি বাউল শিল্পী রিঙ্কু কাকা।

উনার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। উনাদের মতো গুণী মানুষের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আজ আমি বাউল শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলেও বাউল শাহিনের প্রোগ্রাম নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আত্রাইয়ের কৃতি সন্তান বাউল শাহিন আগামীতে বাউল গানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চান।

এই মাটির শিল্পী তাঁর সুরের জাদু টিকিয়ে রাখতে এবং আগামী দিনে আরও দূর এগিয়ে যেতে দেশবাসী ও সকলের দোয়া এবং শুভ কামনা প্রত্যাশা করেছেন।