শিরোনাম

/ আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল /
চাঁদপুর, ২৭ জুলাই ২০২৬ (বাসস): জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা ও সুরকি। যে কোনো সময় ছাদ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ভয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনগুলো সংস্কার না হলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ৪০ জন, আছে ১৮ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা ১৯২ জন, আছে ১১৬ জন। পর্যাপ্ত নার্স নেই, অ্যানেস্থেসিয়ার ডাক্তার নেই। সিজার করার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। অ্যাম্বুলেন্স ও এক্সরে মেশিনের মতো অনেক সরঞ্জামই নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার শত শত রোগী এ হাসপাতালে আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বিছানা নেই। বেডে কিছু রোগী থাকলেও বাকিরা আছেন মেঝেতে। হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলা ও দ্বিতীয় তলায় ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফাটলের জায়গা থেকে পলেস্তারা ও সুরকি ভেঙে পড়ছে। আন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের রোগীরা ওই স্থানগুলো এড়িয়ে চলছেন। আর যখন বাধ্য হয়ে ওই স্থান ব্যবহার করছেন, তখন তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুধু রোগীরাই নন, এমন আতঙ্ক দেখা গেছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যেও।
মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খোকন বাসসকে বলেন, মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম তিনদিন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে মেয়ের ওষুধ আনার জন্য বাইরে যাচ্ছিলাম। হাঁটছি আর আতঙ্ক নিয়ে বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার পরই দেখা যাচ্ছে ছাদে ফাটল ধরেছে। মাঝেমধ্যেই সিমেন্ট-সুরকির বড় বড় অংশ ভেঙে পড়ছে। এ জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। এভাবে একটি হাসপাতালে থাকা যায় না। ভয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।
দক্ষিণ উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের রাবেয়া বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য কিন্তু এই হাসপাতালে এসে থাকতে হয় আতঙ্কে, কোন সময় যেন মাথায় ভেঙে পড়ে ছাদ। হাসপাতালের অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে। আবার হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য নাই কোনো মেশিন।’
তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও ভবন সংস্কার করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
রোগীর অভিভাবক ফারজানা বলেন, এক ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছি। সবার নজর একটু পরপরই ছাদের দিকে। কখন না জানি ছাদের পলেস্তারা মাথার ওপর খসে পড়ে। যতক্ষণ হাসপাতালে আছি এই আতঙ্ক থাকবেই।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বণিক বাসসকে বলেন, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথম তলা ও দ্বিতীয় তলার ছাদেও ফাটল আছে। খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ।
তিনি বলেন, জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন স্থানে লিফলেট লাগানো হয়েছে। তবে আমরা রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।
এই হাসপাতালেরই কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, হাসপাতালের পলেস্তারা ভেঙে খসে পড়ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে মেশিন সরঞ্জাম ও চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল সংকট রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম ইশমাম বলেন, হাসপাতাল ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিষয়টি জেনেছি। সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।