বাসস
  ০২ জুন ২০২৬, ১১:৩৩

বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত : দ্রুত ও সাশ্রয়ী বিচারের নতুন দিগন্ত

ঢাকা, ২ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশে ব্যবসায়িক বিরোধগুলো দ্রুত ও কম খরচে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এটি একটি বড় ধরনের যুগান্তকারী পরিবর্তন।

সাধারণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার জট এড়িয়ে কেবল বাণিজ্যিক বিষয়গুলো সমাধানের জন্য এই বিশেষায়িত আদালত গঠন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।

আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরশাদুল আলম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আশা করছি, এই আদালতগুলো বাণিজ্যিক বিরোধের দ্রুত ও কম খরচে বিচার নিশ্চিত করবে।’

সম্প্রতি রাজধানীতে দেশের বাণিজ্যিক বিচার ব্যবস্থার ওপর আয়োজিত এক সেমিনারের ফাঁকে তিনি এ কথা বলেন।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘বাণিজ্যিক আদালত গঠনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে, বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত। এটি ব্যবসার খরচ ও সময় উভয়ই কমিয়ে আনবে ও আইনের শাসনের প্রতি সবার আস্থা বাড়াবে।’
তিনি আরও বলেন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমানভাবে দরকষাকষি করতেও এটি আমাদেরকে সাহায্য করবে।

বাণিজ্যিক আদালতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ এখন সাধারণ আদালত থেকে বিশেষায়িত আদালতের দিকে যাচ্ছে। এখানে ব্যবসায়িক বিরোধগুলোকে আর দশটা সাধারণ মামলার মতো না দেখে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য একটি অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এরশাদুল আলম আরও বলেন, এই আদালত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি গুণগত মানকে উৎসাহিত করে ও প্রাধান্য দেবে। 

তিনি বলেন, আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক আইন ও বাণিজ্যিক বিরোধ বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে জটিল ব্যবসায়িক লেনদেন বা বিরোধগুলো শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা সমাধান করবেন।

সরকারি এই কর্মকর্তা বলেন, আইনটি অনন্য। কারণ এটি সাধারণ দেওয়ানি কার্যবিধির ধীরগতি এড়িয়ে ‘স্যুট ম্যানেজমেন্ট হিয়ারিং’ বা মামলা ব্যবস্থাপনা শুনানির মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করবে।

অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, ‘সরাসরি একটি সময় নির্ধারণ করা হবে। এতে এমন একটি সময় ঠিক করা হবে, যার মধ্যে উভয় পক্ষ নির্দিষ্ট একটি বিরোধের অবসান বা নিষ্পত্তি করতে একমত হবে।’

বাণিজ্যিক আদালতের কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘ই-বেল বন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামার মতো ব্যবস্থা থেকে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক আদালতগুলোকে সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি-বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আত্মবিশ্বাসী।