বাসস
  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৪

ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস-এর সন্দেহজনক ৫টি রপ্তানি চালান আটক

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): কাগজপত্র ও এএসওয়াইকিউডা সিস্টেমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের রপ্তানি দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য না পাওয়ায় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি সন্দেহজনক রপ্তানি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব চালানে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্য রপ্তানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঘোষিত রপ্তানি মূল্য ছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর এএসওয়াইকিউডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে রপ্তানি কনসাইনমেন্ট যাচাইকালে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি রপ্তানি চালান নজরে আসে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে রপ্তানির গন্তব্য দেশ, পণ্যের ধরন ও ঘোষিত মোট ওজনের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে চালানগুলো আটক করে অধিকতর যাচাই শুরু করা হয়।

পরবর্তীতে দাখিল করা বিল অব এক্সপোর্ট অনুযায়ী, ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামীয় ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো থেকে পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে সিআইআইডির কর্মকর্তারা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে গিয়ে পণ্য পরীক্ষণের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।

তবে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই প্রদর্শন করতে পারেননি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো ডিপোতে প্রবেশই করেনি।

এনবিআর জানায়, পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করা সত্ত্বেও কীভাবে রপ্তানির কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটির গত এক বছরে আমদানিকৃত কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিক। এ পরিমাণ স্বাভাবিক ইনপুট-আউটপুট কো-এফিসিয়েন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এনবিআর জানায়, আলোচ্য পাঁচটি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইন উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ডিপো কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস আইন ও অন্যান্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।