বাসস
  ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৮
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০১

ঢাকার যানজট নিরসনে ৪টি টার্মিনাল ডিপো পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ  মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তানের চারটি বাস টার্মিনালের বিদ্যমান ডিপো পরিপূর্ণভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব টার্মিনালকে সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ রোববার সচিবালয়ে সড়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনে গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে বাসসকে হাবিবুর রশিদ এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে নেওয়া নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে সভায়। যেসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এ চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থান ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

কাঁচপুর ও পূর্বাচলের মতো স্থানও এ কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। টার্মিনালের পাশের জায়গাগুলো দ্রুত কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনে শুধু রাজধানীর ভেতরের সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করলেই হবে না। নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাও অপসারণ করতে হবে। এসব স্থাপনা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। পাশাপাশি গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় চারটি বাস টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোর সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালগুলোতে বাস কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই হবে না। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাস চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার, যাত্রী ওঠানামা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপের মত বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

সভায় চলমান উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ধীরগতির কাজগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, পরিবহন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসন নীতির আওতায় নেওয়া উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনাল স্থানান্তর, বিকল্প ডিপো ব্যবহার, গাবতলী সম্প্রসারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি কর্পোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সড়কে বাসের অযাচিত অবস্থান ও পার্কিং কমার পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট কিছুটা কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে।