শিরোনাম

ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে পালানোর অভিযোগে হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন, গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ, তার স্ত্রী গৃহকর্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা এবং শ্বশুড় এবিএম আব্দুর রাজ্জাক। তাদের মধ্যে ফয়সাল পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, তার শ্বশুড় আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিণী।
আজ শাহবাগ থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মীম আক্তার (১৫) প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কথা মীম ফোনে পরিবারকে জানালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
গত ১২ আগস্ট অজ্ঞাত হিসেবে মীমের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সে বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ১৭ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
২০ আগস্ট খবর পেয়ে মীমের পরিবার শাহবাগ থানায় যায় এবং পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মরদেহ শনাক্ত করে। নিহত মীম কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় গত ২১ আগস্ট শাহবাগ থানায় মীমের মা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।