শিরোনাম

রাজশাহী, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেছেন, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং খেলাধুলার সাথে সমাজের অপরাধ প্রবণতার একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক রয়েছে। সমাজে যদি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চর্চা বৃদ্ধি পায় তবে কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি, জুয়া ও বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো পর্যায়ক্রমে দূর হবে।
তিনি নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ হতে নজরুলের আদর্শ ধারণ করে বেশি বেশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
আজ সোমবার সকালে রাজশাহী নগরীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী সকল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যিক দর্শনের ওপর আলোকপাত করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কবি নজরুলের কবিতা ও গান কেবল বিনোদন নয়, বরং তা মানুষের অধিকার আদায় ও পুনর্জাগরণের দীক্ষা দেয়। কবির শৈশবে রুটির দোকানে কাজ করার কঠিন বাস্তবতাই তাঁর মনে বিদ্রোহী মনোভাবের জন্ম দিয়েছিল।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ এবং দরিরামপুর হাই স্কুলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, নজরুল সর্বদা সমাজের বৈষম্য, ধর্মীয় অসংগতি ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী চালিয়ে গেছেন।
কবিকে তিনি ‘আমাদের কবি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সাধারণ মানুষ যে কথা সাহসের সাথে বলতে পারেনি, নজরুল তা অত্যন্ত সাহসের সাথে উচ্চারণ করেছেন এবং এ কারণে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছিল।
এসময় তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতালসহ সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে নজরুল চর্চার মাধ্যমে একটি শিক্ষিত, অপরাধমুক্ত ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তব্য শেষে বিভাগীয় কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষের এ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, আরএমপির কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী উন্নয়ন কতৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, জেলা কালচারাল অফিসার মো. ফারুকুর রহমান ফয়সল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।