শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা দেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
ভোর সাড়ে ছয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বের শুরুতেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাসদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের পক্ষের সোচ্চার কণ্ঠ। তিনি যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুল প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন।
রিজভী বলেন, জাতীয় কবি জীবনভর অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং মানুষকে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে নজরুলের বাণী মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার লেখনী ও সাহিত্যকর্ম বুকে ধারণ করে পথ চললে মানুষ নির্ভীক হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, নজরুলের মতো মহীরুহ প্রতিভা নিয়ে চর্চা ও অনুশীলন আবার শুরু হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান, সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, জাসাস-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য লিয়াকত আলী প্রমুখ।
এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হল, জাসাস জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম, নজরুল একাডেমি, নজরুল সংগীত শিল্পী সংস্থা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় কবির আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।
এদিকে, ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।
সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, আবৃত্তি, নাচ, গানসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান।
আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে ছায়ানট।
সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে ‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান হয়।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক সংগীত শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা।
এরপরই শুরু হয় প্রথম পর্বের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
দ্বিতীয় পর্বে শিল্পীদের একক কণ্ঠের গানের মধ্য দিয়ে কবির প্রেম, বিরহ ও আধ্যাত্মিক ভাবধারা ফুটে ওঠে। এরপর একক গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
বিকেলে ঢাকার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটে 'মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল' শীর্ষক এক আলোচনা সভা, দোয়া, হামদ ও নাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।