শিরোনাম

নীলফামারী, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।
তিনি বলেন, তিস্তা এলাকার মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষিকাজ, মাছ ও হাঁস চাষ করতে পারে, সে লক্ষ্যে তাদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করবে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলস্টেশন সংলগ্ন মাঠে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদী দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ, সুইচগেট ও ব্যারাজ নির্মাণ করে নদীর পানি ভিন্ন পথে প্রবাহিত করার ফলে বাংলাদেশ মরুভূমির দিকে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের বন্ধু মনে করেন, তাহলে বাংলাদেশকে মরুভূমি থেকে রক্ষা করার জন্য জাতিসংঘ সনদের আওতায় বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। তাহলে মনে করব, আপনারা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান।’
সার সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাচ্ছে। দেশে বর্তমানে যেসব সার ডিলার রয়েছেন, তাদের বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের ডিলারদের বাতিল না করে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগ দিতে দ্বিতীয় পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তৃতীয় পরিপত্রে সময় বাড়িয়ে দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এর ফলে জনগণ সহজেই সার পাবে।
কেউ যাতে বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী, ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেয়াজুল ইসলাম কালুসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।