বাসস
  ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১

দিনাজপুরে উদ্ধার প্রাচীন পুরাকীর্তি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে হস্তান্তর

ছবি : বাসস

দিনাজপুর, ২০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষায় দিনাজপুর ৪২ বডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি’র উদ্ধার ৭টি প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি রাষ্টীয় সম্পদ জেলার কাহারোল উপজেলার কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়কের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত ১১টায় দিনাজপুর ৪২বডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাসস’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবি কর্তৃক এসব প্রত্নসম্পদ সহকারি কাস্টোডিয়ান জেলার কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে গতকাল বুধবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজিবি’র সূত্র জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালানি পণ্য, মাদক দ্রব্য উদ্ধার, মানবপাচার, অস্ত্র এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত বিজিবি সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে আসছেন।

গত ৫ জুলাই দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচুন্ডি মালিপাড়া ও কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৩টি প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করে। উদ্ধার কষ্টি পাথরের মুর্তি গুলো আদালতের নির্দেশে সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে জেলার বিরল উপজেলা ও খানসামা উপজেলা থেকে উদ্ধার করা ৪টি কষ্টি পাথরের মুর্তি প্রত্নসম্পদ বিজিবি’র হেফাজতে ছিল। আদালতের নির্দেশনায় গতকাল বুধবার রাতে সর্ব মোট ৭টি কষ্টি পাথরের মূল্যবান মূর্তি প্রত্নসম্পদ জেলার কাহারোল উপজেলার কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. শিহাব হোসেনের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল ৩০ কেজি ৬শ’ গ্রাম ওজনের ২টি প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি এবং ৪৫ কেজি ৩৭০ গ্রাম ওজনের ১টি প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি কাস্টোডিয়ান, পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, বদলগাছী, নওগাঁ এর নিকট হস্তান্তর করা হয়। তাছাড়া গত ১১ মে, ৯ কেজি ৫৪০ গ্রাম ওজনের ১টি প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দিনাজপুর ৪২ ব্যাটালিয়ন- বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বাসস’কে বলেন, ‘প্রত্নসম্পদ একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এসব প্রাচীন নিদর্শনের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য অপরিসীম। তাই প্রত্নসম্পদের অবৈধ পাচার ও ধংস রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদারের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া প্রত্নসম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র, চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় প্রত্নসম্পদ পাচারসহ যে কোন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান ও নজরদারি চলমান থাকবে।