শিরোনাম

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।
আজ (মঙ্গলবার) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক উপদেষ্টা ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
সেমিনারে বিশেষ বক্তা ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. রোয়ান উদ্দিন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম।
ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এই আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।
তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
ঢাবি উপাচার্য বলেন, নীতির প্রশ্নে আপস না করায় তাকেও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে সহকর্মীদের সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থার কারণে তিনি দৃঢ় থাকতে পেরেছেন।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশে একক সিদ্ধান্তের সংস্কৃতি, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা এবং জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। সেই বাস্তবতা থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং জনগণের অংশগ্রহণ দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
উপাচার্য আরও বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকলে চলবে না। এই চেতনা আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এবং শিক্ষাঙ্গনে ধারণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য কিংবা স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অন্যতম পূর্বশর্ত।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আজ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন বিবিএ ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রুবায়েত ফেরদৌস রনিল।
দর্শন বিভাগের উদ্যোগে কলাভবনের ২০২৮ নম্বর কক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. নূরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
দর্শন বিভাগের জুলাই স্মৃতি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দাউদ খাঁন, অধ্যাপক ড. শাহ্ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী, অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, ড. আহম্মদ উল্লাহ, মুহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম, অরুনা খাতুন জিনিয়া, খন্দকার তোফায়েল আহমেদ, তাপসী রাবেয়া ও হামিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ, শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল।