বাসস
  ১৪ জুলাই ২০২৬, ২০:২৪
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ২১:১৯

একাডেমিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে : হাইকমিশনার

ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা কূটনীতি, একাডেমিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘প্রথাগত কূটনীতির বাইরে দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধনই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি।’

মালদ্বীপের প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এমএনইউ) হাইকমিশনারের লেখা ‘পাওয়ার অফ বন্ডিং অ্যান্ড নন-ওয়েস্টার্ন সফট পাওয়ার স্ট্র্যাটেজি’ শীর্ষক বইয়ের কপি উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমএনইউ’র উপাচার্য ড. আয়েশা শেহেনাজ আদমের কাছে বইগুলো হস্তান্তর করা হয়। 

দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম তার বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য ‘পাওয়ার অফ বন্ডিং’ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটি মূলত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা ও অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি শক্তিশালী সফট পাওয়ার। মালদ্বীপে বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান এবং দুই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও জলবায়ু খাতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা এই বন্ধন শক্তিরই এক বাস্তব প্রতিফলন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে মেধা ও মনন বিকাশের মূল কেন্দ্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিশ্ব রাজনীতিতে ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা বুঝতে নতুন খোরাক জোগাবে।

হাইকমিশনার দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, সেমিনার ও বৃত্তির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বই উপহারের এই চমৎকার উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আয়েশা শেহেনাজ আদম।

তিনি বলেন, ‘উপহার হিসেবে পাওয়া বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান সংযোজন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে গবেষণায় এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে সমৃদ্ধ করবে।’

উপাচার্য বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়াতে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই ধরণের একাডেমিক বিনিময় দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লাইব্রেরিয়ান হুসাইন হালিমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য, অনুষদ সদস্য, গবেষকবৃন্দ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাগণ এবং মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সুধীজন উপস্থিত ছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।