শিরোনাম

ঢাকা, ১১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), পিএলসির চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে রক্ষিত ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ তুলে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ৮ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে আজ এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে আজ এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে শওকত আলী চৌধুরীকে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস-এর নাগরিক এবং ব্যাংক খাতের বহুল আলোচিত এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সন্দেহজনক লেনদেনটি নির্বিঘ্নে দুবাইয়ে স্থানান্তরের সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও কেন যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্টদের কাছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ অভিযোগ করেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পাচারকৃত সম্পদের তদন্ত চলাকালে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিসহ) শওকত আলী চৌধুরীর নামে যুক্তরাজ্যে রক্ষিত ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সন্ধান পায়। ওই সময় তিনি অর্থটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডিতে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন।
যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক লেনদেনটি সাময়িকভাবে আটকে রেখে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে এবং জানায়-বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ফ্রিজিং আদেশ বা আইনি সহায়তার (এমএলএ) অনুরোধ না পেলে লেনদেনটি আর আটকে রাখা সম্ভব হবে না। নোটিশদাতার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএফআইইউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে, ২৫ মিলিয়ন ডলার অবাধে দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হয়ে যায় এবং পাচারকৃত অর্থ জব্দ ও প্রত্যাবাসনের একটি সুবর্ণ সুযোগ রাষ্ট্র হারায়।
আইনি নোটিশের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বাসসকে বলেন, ‘আইনি নোটিশ আমার কাছে এখনও আসেনি। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না’।