শিরোনাম

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সরকারি ক্রয়ে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে দেশে পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থা চালু করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ই-জিপি সিস্টেমের উন্নয়ন, বাধ্যতামূলক ই-জিপি বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক দুটি অংশীজন পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে এবং দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণে বিপিপিএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে।
চলমান অংশীজন পরামর্শ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এ কর্মশালার আয়োজন করে। এর লক্ষ্য হচ্ছে ই-জিপি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, সরকারি সব ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং বিপিপিএর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে সুপারিশ সংগ্রহ করা।
সকালের অধিবেশনে ই-জিপি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রকল্প পরিচালকরা অংশ নেন।
অপরদিকে, বিকেলের অধিবেশনে ই-জিপি প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দুই কর্মশালাতেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
কর্মশালা দুটিতে সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস এম মঈন উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব শিরাজুন নূর চৌধুরী।
উভয় কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিপিপিএর পরিচালক শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম। এছাড়া বিকেলের অধিবেশনে জাতীয় ই-জিপি সিস্টেম উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন বিপিপিএর সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. মোশাররফ হোসেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর ই-জিপি ব্যবস্থা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের একটি বড় অংশই সরকারি ক্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে ক্রয় ব্যবস্থাপনার সুশাসন জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সব সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি বাস্তবায়ন চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে সিস্টেমকে আরও দক্ষ, ব্যবহারবান্ধব এবং সব অংশীজনের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ায় গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কর্মশালায় বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ই-জিপি বাস্তবায়নের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা আরও ভালোভাবে বুঝতে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে ধারাবাহিকভাবে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘ই-জিপি বাস্তবায়ন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত নিতে আমরা ঢাকার বাইরেও আরও অংশীজন সংলাপ আয়োজন করব। এসব পরামর্শের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় কার্যকর সমাধান প্রণয়ন করা হবে।’
আইএমইডি সচিব শিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, প্রকল্প প্রণয়নের দুর্বলতা অনেক সময় কার্যকর বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই সময়মতো বাস্তবায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত মানের ফল নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রকল্প প্রস্তুতির মানোন্নয়নও জরুরি।