বাসস
  ০১ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫৩
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:২১

ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় নদ-নদীগুলোর পানির স্তর অনেকটা স্থিতিশীল

ফাইল ছবি

রংপুর, ১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আজ বিকেল ৩ টায়  ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বৃহত্তর রংপুরের পাঁচটি জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির স্তর অনেকটা স্থিতিশীল দেখা যায়। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর বেশিরভাগ পয়েন্টে পানির স্তর কমেছে। 

নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি এবং কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার প্লাবনভূমি এবং কিছু নিচু চর এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদীর তীরবর্তী কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে নদীভাঙনের খবর পাওয়া গেছে।

ডব্লিউডিবি’র রংপুর সার্কেলের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান হাবিব বাসসকে জানান, অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় উজান থেকে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ দিন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলে প্রধান নদীগুলোর তীরবর্তী প্লাবনভূমি ও নিচু চরাঞ্চলে অস্থায়ী বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিচু চরাঞ্চলে অস্থায়ী বন্যার পরিস্থিতি ওঠানামা করতে পারে এবং আগামী কয়েকদিনে বড় ধরনের বন্যার কোনো পূর্বাভাস নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি।’

এদিকে, বিডব্লিউডিবির বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) আজ এক বুলেটিনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আজ বিকেল ৩টায় কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে দুধকুমার, নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর এবং গাইবান্ধার হরিপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (ডিএল) নিচে প্রবাহিত হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও অন্যান্য কিছু এলাকায় এবং ভারতের উজান অঞ্চল মেঘালয় রাজ্যে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থার মতে, আগামী পাঁচ দিন রংপুর বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয় রাজ্যের সংলগ্ন উজান অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানির স্তর কমেছে। অন্যদিকে যমুনার পানির স্তর বেড়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী চার দিন ধরে বাড়তে পারে।

৪ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী সতর্কীকরণ স্তরে প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিচু এলাকা কিছু জায়গায় প্লাবিত হতে পারে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় এই নদীগুলো সতর্কীকরণ স্তরে প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিচু এলাকা কিছু জায়গায় প্লাবিত থাকতে পারে।

এফএফডব্লিউসি বুলেটিনে বলা হয়, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় উজানের ভারতীয় রাজ্যগুলেঅর মেঘালয়ের মাইকিয়ারওয়াত পয়েন্টে ৬৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে দিনাজপুর পয়েন্টে ৮২ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।