শিরোনাম

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মার্কিন ডলারে বেতন প্রদানের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে তাদের নিরাপদ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের চ্যান্সারি ভবনে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কোকা-কোলা মালদ্বীপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিলিন্দ দেরাসারি।
আজ বুধবার দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে কোকা-কোলা মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, আইনগত অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করায় কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘ডলারে বেতন পাওয়ার ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেশে পাঠাতে পারছেন। এটি মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের আর্থিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাইকমিশনের একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।’
কোকা-কোলা মালদ্বীপের সিইও মিলিন্দ দেরাসারি জানান, বর্তমানে তাদের কোম্পানিতে ২০০-এরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন কারিগরি, প্রশাসনিক, উৎপাদন ও পরিচালনাগত গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্তমানে কোম্পানিটি বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন মার্কিন ডলারে প্রদান করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ব্যবস্থা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আলোচনায় ইউনিভার্সাল গ্রুপের আওতাধীন কোকা-কোলা মালদ্বীপ এবং এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
সিইও জানান, থুলুসধু দ্বীপে অবস্থিত কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে তারা আগ্রহী।
হাইকমিশনার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের জন্য কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রম সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
হাইকমিশনার বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা তুলে ধরে মালদ্বীপের ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।