শিরোনাম

ভোলা, ২৮ জুন ২০২৬ (বাসস): উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে দ্বীপ জেলা ভোলায় ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্যোগের আগে, দুর্যোগ চলাকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময় ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক প্রস্তুতিসহ জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ মহড়ার আয়োজন করা হয়। গতকাল বিকালে সদর উপজেলার ইলিয়াছ মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এ মহড়ার আয়োজন করে। দুর্যোগ মোকাবেলা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ উপস্থিত হন।
প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ে কেড়ে নেয় উপকূলের অসংখ্য মানুষের জান মাল ও সহায় সম্বল। সচেতনতার অভাবে বেশিরভাগ ক্ষতি হয় উপকূলীয় এলাকায়। তাই ঘূর্ণিঝড় চলাকালে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই মাঠ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই মহড়ায় বিভিন্ন অভিনয়ের মাধ্যমে উপকূলের মানুষের জীবনযাত্রা ও ঘূর্ণিঝড়কালীন করণীয় বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়।
মহড়ায় দেখানো হয়, বছরের অন্য যে কোনো দিনের মতোই সকালের কাজ কর্ম শুরু করেন (প্রতীকী) একটি গ্রামের বাসিন্দারা। দৈনন্দিন কাজ কর্মের পাশাপাশি চলে আনন্দ উৎসবও। তারপর ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় পুরো গ্রাম। গাছপালা, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে বহু মানুষ হতাহত হন। ঝড় থেমে গেলে হতাহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা দেওয়াসহ নানা কাজ করে দেখান সিপিপির স্বেচ্ছাসেবীরা।
তবে এটি কোনো বাস্তব ঘটনা নয়। যে-কোনো দুর্যোগের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ভোলার মানুষকে সচেতন করতেই ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিমূলক এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। দুর্যোগ মোকাবেলা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ খুব মনোযোগ দিয়ে এ কার্যক্রমটি রপ্ত করেন।
মহড়ায় অংশ নেয়া সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক মাকসুদুর রহমান বলেন, দুর্যোগকালীন সময় আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের কী করণীয়, গ্রামবাসীর কী করা উচিত সেসব বিষয়ে একটা ধারণা দেওয়া হয় এই মহড়া থেকে।
সচেতনতামূলক এই মহড়া মাঠের চারদিকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন দুর্যোগের শিকার অসংখ্য মানুষ ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান মহড়ায় অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
আয়োজকরা জানান, সর্বস্তরের মানুষকে দুর্যোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ দুর্যোগের আগে, চলাকালীন ও পরবর্তী পর্যায়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে প্রস্তুতি নিশ্চিতসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে এই ধরনের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে, এজন্য স্কুল পর্যায়ে এই ধরনের দুর্যোগ মহড়ার আয়োজন করা হবে বলেও জানান।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এবং সিপিপির (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক মো.গোলাম নবী আলমগীর, ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহান সরকার।
অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভোলা জেলা (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি)সিপিপির উপ-পরিচালক মো. হাসানুল আমিন, সিপিপির ভোলা সদর উপজেলার টিম লিডার আবুল হাসনাত তসলিম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ সাজেদসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।