বাসস
  ২৬ জুন ২০২৬, ০০:৩৬

সুরঞ্জিত সেন হত্যাচেষ্টা মামলায় খালাস পেলেন মন্ত্রী আরিফ, হুইপ জিকে গউছ ও বাবর

সিলেট, ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : সাবেক মন্ত্রী ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক ও হত্যার মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুকে (৪৪) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার আগে সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ আদালতে উপস্থিত হন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন বলেন, মামলায় মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে মুফতি হান্নানসহ দুইজন মারা গেছেন। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধু আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে ৩টি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে গত ৭ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। ওই সময় তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

আদালত সূত্র আরও জানা যায়, মামলার বিচারকালে ৬৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।