শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ পালিত হবে আগামীকাল ২৬ জুন।
এ উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সকালে রমনা পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব পাশ থেকে মাদকবিরোধী র্যালি শুরু হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হবে। এরপর সেখানে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের থিম সং প্রদর্শন এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী কার্যক্রমের ডুকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হবে। দিবসটিকে ঘিরে একটি স্যুভেনির ও বার্ষিক মাদক প্রকাশ ও প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৪টি সরকারি এবং ৩৮৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে ডিটক্সিফিকেশন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, গ্রুপ ও ফ্যামিলি থেরাপি, পুনর্বাসন এবং পুনরায় সমাজে সম্পৃক্তকরণসহ সমন্বিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনাই এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
ডিএনসি জানায়, নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী মাদক অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মাদকের ধরণ ও পরিমাণভেদে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। মাদক কারবারি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
ডিএনসি জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সারাবছরই নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চলছে। মাদক উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে অধিদপ্তর বদ্ধপরিকর। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনÑএই তিনটি ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-কে সংশোধনপূর্বক যুগোপোযোগী করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বর্তমান সরকার মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করেছে। এছাড়াও পথশিশুসহ যারা মাদকাসক্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে তাদেরকে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারিভাবে পরিচালিত ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরে স্থাপিত নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসটি জাতিসংঘ ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এবং অবৈধ মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ জুন দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর এই দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।