শিরোনাম

॥ মঞ্জুর মোর্শেদ ॥
মুন্সীগঞ্জ, ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গজারিয়া অংশে ১৩ কিলোমিটার সড়কের ৬টি ইউটার্ন রয়েছে। দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কের এসব ইউটার্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ইউটার্নগুলোতে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গত দেড় বছরে একাধিক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৬টি ইউটার্ন অত্যন্ত দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এরমধ্যে বাইশিয়া এলাকায় রয়েছে মানাবে পার্কের সামনে ১টি, বাউশিয়া পাখির মোড়ে ১টি, ভবেরচর এলাকায় আলিফ কাচ্ছি হোটেলের সামনে রয়েছে ১টি, বালুয়াকান্দি এলাকায় সরদার তেলের পাম্পের সামনে ১টি এবং নুরজাহান হোটেলের সামনে ১টি ইউটার্ন রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম এই সড়কে ইউটার্ন ব্যবহার করে ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশাা ও মোটরসাইকেল চালকরা দ্রুত মহাসড়ক পারাপারের জন্য ইউটার্ন ব্যবহার করছে। সবচেয়ে বেশি ইউটার্ন ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালকরা।
এসব ইউটার্ন এলাকায় বামে এবং ডানে পর্যাপ্ত প্রশস্ত রাস্তা নেই। নেই কোনো গতি নিয়ন্ত্রক এবং ট্রাফিক সিগনাল। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্ন নিতে গিয়ে যানবাহনের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
ভবেরচর হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি পাখির মোড় এলাকায় নিহত হয় স্বাধীন হোসেন ১৭ ফেব্রয়ারি বাউসিয়ায় ২ মোটরসাইকেল চালক নাইম মৃধা এবং সজিব প্রধান প্রাণ হারায়। গত ৩ মে ভবেরচরে ফরহাদ উদ্দিন ভূইয়া নিহত হয়।
চলতি মাসের ৯ জুন হাসপয়েন্টে নিহত হয় মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত, গত বছরের ৪ জুলাই বাউশিয়ায় ইউটার্ন নিতে গিয়ে ২ মোটরসাইকের চালক মেহেদী হাসান এবং মাহমুদুর হাসান এবং একই বছরের ৭ জুলাই ইউটার্ন নিতে গিয়ে বাস উল্টে নিহত হয় বাসের হেলপার আজগর আলী। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর অটোরিকশা মানাবে পার্কের সামনে ইউটার্ন নিতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের ধাক্কায় নিহত হয় অটোরিকশা আরোহী বিল্লাল হোসেন এবং তার স্ত্রী আলনা বেগম।
বেশিরভাগ ইউর্টানই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ও ছোট যানবাহনের চালক ঝুঁকি নিয়ে হঠাৎ ইউটার্নে প্রবেশ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাতের বেলায় দুর্ঘটনা ঘটে। ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ কামাল বাসস’কে বলেছেন ইউটার্ন এলাকায় পাশে জায়গা নেই, গোল চত্বর না থাকায় বুঝা যায় না সামনের গাড়ি ইউটার্ন নিচ্ছে। রাতের বেলায় আলোর স্বল্পতা থাকায় ইউটার্নে প্রবেশ আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। ইউটার্নে প্রবেশ এবং বাহিরে আলাদা লেনের ব্যবস্থা, গতি নিয়ন্ত্রণ ক্যামেরা,উন্নতমানের সড়ক চিহ্ন ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা আন্ডার পাসের ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। ইউটার্নে দুর্ঘটনার রোধে যানবাহন চালকদের সচেতনতা আবশ্যক। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ইউটার্ন নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভিটিকান্দি সড়ক উপ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আলরাজী লিয়ন বাসস’কে জানান, বাউশিয়া এলাকায় প্রশস্ত ইউটার্ন এবং জামালদি এলাকায় মেঘনা ব্রিজের নিচ দিয়ে আন্ডার পাসের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ইউটার্ন নেয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।