বাসস
  ২৪ জুন ২০২৬, ১৫:৩২

২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি মানুষকে পেনশনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলছে : ড. সুরাতুজ্জামান

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের চার কোটি মানুষকে পেনশনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, ‘বার্ধক্যের সময়ে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে এই সেবার আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য।’

বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে দুই দিনব্যাপী ‘সর্বজনীন পেনশন মেলা’র উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও এ ধরনের পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ডের মাধ্যমে জাতীয় পেনশন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হবার কোনও কারণ নেই, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে এ অর্থ অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকবে। আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়মিত সঞ্চয় করে ৬০ বছর বয়সে পেনশন সুবিধা পাবেন। জীবনের এমন একটি সময়ে এই অর্থ প্রদান করা হবে, যখন আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি থাকে।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, কেউ ৬০ বছর বয়সের পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে তার নমিনি সুদসহ জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন। এছাড়া আয়-সামর্থ্যের পরিবর্তন হলে মাসিক চাঁদার পরিমাণ কমানো বা বাড়ানোর সুযোগও থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।

বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ভিন্নধর্মী এই মেলার এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ, নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’। মেলা উপলক্ষে আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়।

পরে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, দর্শনার্থীরা মেলায় এসে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি তাদের জন্য নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও রয়েছে।

মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, হর্টিকালচার বিভাগ, বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল বসানো হয়েছে।