শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০২৬ (বাসস): সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ আজ যমুনা সেতু এলাকা এবং সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক)-২ প্রকল্পের বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তিনি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, গুণগতমান ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের শুরুতে সচিব যমুনা সেতুর পরিত্যক্ত রেল ট্র্যাক অপসারণ করে ডেক বর্ধিতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, নতুন যমুনা রেল সেতু চালু হওয়ার পর পুরোনো রেল অবকাঠামো অপসারণ এবং ডেক সম্প্রসারণের মাধ্যমে যমুনা সেতুর কার্যকারিতা ও ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক চাহিদা মোকাবিলায় সেতুটি অধিক সক্ষমতা অর্জন করবে।
এরপর তিনি যমুনা সেতুর চলমান পট বেয়ারিং প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
সেতু সচিব যমুনা সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধ এলাকায় চলমান নদীশাসন কাজও পরিদর্শন করেন।
নদীর প্রবাহ, ভাঙন এবং তলদেশের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে গাইড বাঁধ ও সেতু অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রমের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে সেতু সচিব সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন চার-লেন সড়ক, এলেঙ্গা ফ্লাইওভার এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সাসেক-২ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, যমুনা সেতু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো এবং উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান সংযোগস্থল। সেতুর নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে।
একই সঙ্গে নির্মাণ কার্যক্রমের কারণে জনসাধারণের যাতায়াতে যেন কোনো অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সচিব বলেন, যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্প এলাকায় বিগত দুই ঈদ; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুষ্ঠু ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। তাদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুযোগ পেয়েছেন।
ভবিষ্যতেও একই ধরনের সমন্বয়, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে যানজট ও জনভোগান্তি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পিএন্ডডি) ও যুগ্ম সচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, সেতু বিভাগের উপসচিব মো. খালেদ হোসেন, সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, সাইট অফিসের কর্মকর্তারা, পরামর্শক প্রতিনিধি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।