শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ মে, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আগামীকাল। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আনমাস্কিং দ্য অ্যাপিল- কাউন্টারিং নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো অ্যাডিকশন’।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ দশমিক ৭৮ কোটি মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে আহরিত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
পৃথিবীর ১২৫টিরও বেশি দেশের প্রায় চার মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয় এবং শীর্ষ তামাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ভুক্ত দেশ।
বাংলাদেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ খুবই কম, মাত্র তিন কোটি ৭৬ লাখ সাত হাজার একর। অথচ তামাক চাষে ব্যবহৃত মোট জমির পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বিশ্বের মোট তামাকের এক দশমিক তিন শতাংশই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। দেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণের একটি তামাক।
তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।
টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৩১ শতাংশ বন নিধনের পেছনে তামাক চাষ দায়ী।
গবেষণায় দেখা গেছে, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার তিনটি উপজেলায় তামাকপাতা শুকানোর (কিউরিং) কাজে এক বছরেই প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি কাঠ ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১৩ বছর থেকে ১৫ বছর বয়সী অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ কিশোর-কিশোরী নিয়মিতভাবে তামাক ব্যবহার করে এবং এদেরকে নির্দিষ্ট ব্রান্ডে আসক্ত করতে, কোম্পানিগুলো নানা ধরনের কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়।
এর মধ্যে সুগন্ধিযুক্ত তামাকপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের তামাকপণ্য সহজলভ্য করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিব্রেটিদের ব্যবহার করা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান অন্যতম ।
এ ছাড়াও শক্তিশালী আইন ও কর পদক্ষেপের বিরোধিতা করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোলের (সিডিসি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২১ বছর বয়সের আগেই যারা তামাকে আসক্ত হয়ে পড়ে, তাদের মধ্যে নিকোটিন নির্ভরতা ও আমৃত্যু তামাক ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান মোট জনগোষ্ঠীর ৪৮ শতাংশই তরুণ-তরুণী এবং এরাই কোম্পানির মূল টার্গেট। তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ নতুন প্রজন্মের সব ধরনের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।