শিরোনাম

খুলনা, ২২ মে, ২০২৬, (বাসস): কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সংবিধান সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে।
সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের পক্ষ থেকেও অধিকার বঞ্চিতদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে মৌলিক অধিকার ও নাগরিক পরিষেবায় দলিত জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা বিষয়ক এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
মানবাধিকার সুরক্ষা ও সহায়তার মাধ্যমে দলিত ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচন ও বিদ্যমান বৈষম্য লাঘব-প্রকল্পের আওতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নাগরিক উদ্যোগ এ সভার আয়োজন করে।
অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর জন্য কাজ করায় নাগরিক উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, দলিত সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
দলিত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর তথ্যানুসারে বর্তমানে বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৭৫ লাখ।
সুইপার, ডোম, কানপুরি, ঋষি, কাওরাসহ প্রায় ১০০টিরও অধিক জনগোষ্ঠী পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারা বসবাস করছে।
বহুকাল ধরে এই জনগোষ্ঠী নিরক্ষরতা, নিপীড়ন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করে আসছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দলিত সম্প্রদায়ের ১৯২টি পরিবার বসবাস করছে। যারা দারিদ্র ও নানাবিধ সামাজিক বৈষম্যের শিকার বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়া সভায় দলিত সম্প্রদায়ের জন্য দ্রুত স্থায়ী ও মানসম্মত আবাসন নির্মাণ, স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, স্যানিটেশন এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দলিত সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী বৈষম্য একটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যথাযথ নীতি, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী।
বিডিইআরএম-এর সহ-সভাপতি ধীমান হালদারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন নাগরিক উদ্যোগ-এর ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর পলাশ হালদার।
অন্যদের মধ্যে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের কোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, মহানগর হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কুমার লাল ও সাধারণ সম্পাদক সুনিল ডোম সভায় বক্তৃতা করেন।