বাসস
  ১৯ মে ২০২৬, ২০:৪২

আজারবাইজানে বিশ্ব নগর ফোরামের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ

ছবি : বাসস

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : আজারবাইজানের বাকু শহরে বিশ্ব নগর ফোরামের ১৩তম অধিবেশনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। 

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, অধিবেশনে বাংলাদেশের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।   

এতে বলা হয়, জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচি ইউএন-হ্যাবিট্যাট ও আজারবাইজান সরকারের যৌথ আয়োজনে ১৭ থেকে ২২ মে পর্যন্ত আজারবাইজানের বাকু শহরে বিশ্ব নগর ফোরামের ১৩তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌসী বেগমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল আউয়াল, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম। 

যৌথভাবে ইউএন-হ্যাবিট্যাট ও আজারবাইজান সরকার আয়োজিত এ সম্মেলনে এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিশ্বের আবাসন : নিরাপদ ও টেকসই শহর ও সম্প্রদায়’।

১৩তম ওয়ার্ল্ড আরবান ফোরামের উদ্বোধন করেন ইউএন-হ্যাবিট্যাট-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যানাক্লদিয়া রসবাখ। 

উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় ‘নতুন নগর এজেন্ডা’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে বিশ্বব্যাপী টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ ৫৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশও এই অধিবেশনে অংশ নেয় এবং টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক নগর গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

২০১৬ সালে গৃহীত ‘নতুন নগর এজেন্ডা’ বর্তমানে বৈশ্বিক নগর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল পরিকল্পিত নগরায়ণ, সাশ্রয়ী আবাসন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে দেশের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরে, যা এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এবারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল অগ্রাধিকারসমূহ :

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন :

সারা দেশে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও জনসংখ্যার সুষম বণ্টনের জন্য বাংলাদেশ নতুন স্থানিক পরিকল্পনা আইনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পূর্বাচল নতুন শহর, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প ও উত্তরা তৃতীয় পর্বের মতো উদ্যোগ ঢাকার চাপ কমিয়ে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।

সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন :

বাংলাদেশের নগর নীতিতে ‘সবার জন্য আবাসন’ একটি প্রধান অগ্রাধিকার। সরকার টঙ্গী দত্তপাড়া ও কড়াইলসহ বস্তি উন্নয়ন প্রকল্প এবং নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনে(এফএআর) প্রণোদনার বিষয়টি তুলে ধরে।

জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন :

সরকারি আবাসন কর্মসূচি, স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো ও টেকসই নির্মাণ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি বাসযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ‘পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প’-এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

টেকসই নগরের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব :

কক্সবাজারে ভূমির অবক্ষয় রোধসহ দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন, নগর স্থিতিস্থাপকতা ও টেকসই উন্নয়নে ইউএন-হ্যাবিট্যাট, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউএনওপিএস জিইএস ইউএনইএসসিএপি-এর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।