বাসস
  ১৩ মে ২০২৬, ১৩:০০

উন্নত প্রজন্ম গড়তে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন

ছবি: ইউনিসেফ বাংলাদেশ

ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য তাদের পুষ্টিমান উন্নয়ন অপরিহার্য। শিশুদের বয়স অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে শিশুর উচ্চতা ও ওজন ঠিক থাকবে। তাদের শেখার সক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। এ কারণে বলা যায়, শিশুপুষ্টির উন্নয়ন দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের অন্যতম ভিত্তি। 

প্রতিটি শিশুর জীবনের প্রথম ২৪ মাসে পুষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু প্রথমত মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পুষ্টি পায়। শিশুর বয়স ছয়মাস হলে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি পরিপূরক খাদ্য দিতে হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু খর্বকায় ও কৃশকায় হচ্ছে। এ ধরনের শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অপেক্ষকৃত কম থাকে। ফলে মৃত্যুঝুঁকি বেশী থাকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবার আগে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বিশুদ্ধ পানি ও মাতৃদুগ্ধ পানে জোর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহের সবকয়টি উপাদান সচল রাখার জন্য পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। দুধ হলো তাদের মধ্যে অন্যতম একটি খাবার, যার কোন বিকল্প নেই। দেহ গঠনের প্রয়োজনীয় সকল প্রোটিন দুধে পাওয়া যায়। শিশু, বাড়ন্ত বয়সী, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য প্রতিদিন দুধ অপরিহার্য। শিশু ও বাড়ন্ত বয়সে হাড়, দাঁতের গঠন ও মজবুতের জন্য এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধ করার জন্য দুধ খুবই প্রয়োজন। 

পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন সবার আগে। কেননা এই বয়সী শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তারা পড়ালেখা ভালো করে। খর্বাকৃতি ও ওজনস্বল্পতার মতো শারীরিক জটিলতাও কমে আসে। আমাদের দেশে অপুষ্টির প্রধান কারণ হচ্ছে, অধিক জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, পুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতা। এছাড়া অধিক জনসংখ্যার কারণে খাদ্যদ্রব্যের সহজলভ্যতাও কমে যায়। ফলে শিশু, কিশোর-কিশোরীরা স্বাভাবিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। আর্থিক কারণে প্রয়োজনীয় খাবার খেতে না পারায় অপুষ্টির শিকার হয় অনেকে। আবার যে পরিবারে অর্থের সমস্যা নেই, সেই পরিবারের ছেলেমেয়েরাও অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্কফুড খাওয়ায় অপুষ্টির শিকার হতে পারে। 

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, দেশের সকল বয়সী মানুষের মধ্যে সাড়ে  ৭ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতি রয়েছে। শিশুদের মধ্যে এই হার আরো বেশী। অথচ মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পক্ষে প্রচারণা চালানো জরুরি। এছাড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ নিয়েও ক্যাম্পেইন দরকার। শিশুদের কৃমিনাশক ঔষধও ঠিকমতো খাওয়ানো হচ্ছে না। এ সকল কারণেই অপুষ্ট শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টি শিশুদের অবস্থাকে বর্তমানে অনেক বেশী নাজুক করে তুলেছে।

সার্বিকভাবে দেশে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের অপুষ্টি দূর করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, উপযুক্ত সম্পূরক খাবার খাওয়ানো, ছয় মাস অন্তর অন্তর ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তাহলে শিশুদের অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। শিশুদের ভাতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাল, শাকশব্জি, দেশিয় ফল খাওয়াতে হবে। 

দেশের পুষ্টিমান উন্নয়নের জন্য সরকারের সঙ্গে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।