বাসস
  ১২ মে ২০২৬, ১৬:১০

ভোলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত লক্ষাধিক দেশীয় গরু

ছবি: বাসস

আল-আমিন শাহরিয়ার

ভোলা, ১২ মে, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলার খামারিরা দেশি ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর দেশি গরুর চাহিদা মেটাতে ভোলায় প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার কোরবানিযোগ্য গরু। আর জেলায় গরুর চাহিদা রয়েছে ৮১ হাজার ২০টি।

জেলাব্যাপী খামারিরা প্রাকৃতিক নিয়মে গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। এসব খামারিদের কাছে পর্যাপ্ত গরু থাকায় তারা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তাদের গরু বিক্রি করে আশানুরূপ লাভের প্রত্যাশা করছেন। এজন্য তারা দিনরাত নিজেদের খামারগুলোতে গরুর পরিচর্যা করছেন। 

ভোলার খামারিরা বলেন, এবার ঈদের আগে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে তারা তাদের খামারের গরুগুলো নিয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ঘাস কাটছেন, কেউ খৈল-কুঁড়া প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ গরুকে গোসল করিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখছেন। গরু মোটাতাজা করতে খামারগুলোতে এখন বাড়তি শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। তাছাড়া খামার মালিক পরিবারের সদস্যদেরও তাদের গরু পরিচর্যার কাজে অক্লান্ত খাটুনি খাটছেন। 

ভোলার প্রান্তিক খামারিরা বাসস’কে বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে ও দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণে এসব গরুর মাংস স্বাস্থ্যসম্মত, সুস্বাদু ও নিরাপদ হয়। ফলে এবার ঈদের বাজারে তাদের গরুর সঠিক দাম পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের খামারি টিমন মিয়া বাসস’কে বলেন, বিগত ৫বছর ধরে কোনো প্রকার ওষুধ ছাড়াই কোরবানির জন্য প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু প্রস্তুত করছি। বাজারে এসব গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের খামারি আবুয়াল ফরাজী বাসস’কে বলেন, সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে খামার গড়েছি। গরুও পালন করেছি অনেক। গো-খাদ্যের দাম অত্যাধিক চড়া। যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে সে পরিমাণ লাভ হবে কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। তবুও গরুর ব্যবসা-ই করছি। গরুগুলো ঠিকভাবে বিক্রি করতে পারলে লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশা এই খামারির। 

প্রান্তিক খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পশুখাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের চাপের মুখে রয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, ভারতীয় গরু বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় গরুর দাম কমে যেতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি চান ভোলার খামারিরা। 

জেলা সদরের বেশ কয়েকজন খামারি বাসস’কে বলেন, কেমিক্যাল ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ বা অসুস্থ পশু যাতে হাটে বিক্রি করা না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা খুবই জরুরি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এ বছর ভোলায় কোরবানির জন্য গরুর চাহিদা রয়েছে ৮১ হাজার ২০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার কোরবানিযোগ্য গরু। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ভোলার গরু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, জেলায় এ বছর ৪৯টি স্থায়ী ও শতাধিক অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। সেখানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ২৪টি মোবাইল টিম মাঠে কাজ করবে। কোনো গরু অসুস্থ বা অস্বাভাবিক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা দেয়া হবে। 

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউছার বাসস’কে বলেন, জেলার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গরুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে ভোলার পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স।